পদ্মা ব্যাংকের সাবেক এমডিসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা
- আপলোডের সময় : Monday, August 24, 2026,

পদ্মা ব্যাংকের সাবেক এমডিসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা
ঋণ জালিয়াতি ও আত্মসাতের অভিযোগে পদ্মা ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও আব্দুল মোতালেব পাটওয়ারীসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম গতকাল রোববার এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, জাল কাগজপত্র তৈরি করে এমএইচ এন্টারপ্রাইজের মালিক মমিনুর রহমানের নামে ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ঋণ মঞ্জুর ও আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধান করে দুদক। মমিনুরের অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধান শুরু হলেও পরে তারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়।
দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ঋণ পাওয়ার যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশে মমিনুরের নামে ঋণ অনুমোদন করা হয়। পরে জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে ওই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার অনুমোদন পাওয়া ১০ আসামির মধ্যে রয়েছেন এমএইচ এন্টারপ্রাইজের মালিক মমিনুর রহমান, মো. অজিত উল্লাহ এবং পদ্মা ব্যাংকের সাবেক এমডি ও সিইও আব্দুল মোতালেব পাটওয়ারী। অন্যরা ব্যাংকটির সাবেক কর্মকর্তা।
তারা হলেন গুলশান সাউথ অ্যাভিনিউ শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক ও সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জর্জ কর্নেলিয়াস গমেজ, সাবেক ক্রেডিট ইনচার্জ রাসেল মিয়া, সাবেক ম্যানেজার অপারেশন এম আতিফ খালেদ, প্রধান কার্যালয়ের সাবেক ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট আমেনা বেগম, বসুন্ধরা শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ শামছুল হাসান ভূঞা, সাবেক ম্যানেজার অপারেশন মাহবুব আহমদ এবং সাবেক ক্রেডিট ইনচার্জ মো. কাওসার হোসেন।
দুদকের নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালে অভিযোগটির অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয় মানিলন্ডারিং বিভাগের উপপরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে। অনুসন্ধান শেষে তাঁর দেওয়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মামলার অনুমোদন দিয়েছে কমিশন।
আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ১০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারার পাশাপাশি দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ধারায় মামলা করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
২০১৩ সালে ফারমার্স ব্যাংক নামে যাত্রা শুরু করা ব্যাংকটি ঋণ অনিয়ম ও আর্থিক সংকটে পড়ে। পরে পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তনের পর ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনে ব্যাংকটির নাম পদ্মা ব্যাংক করা হয়। সংকট কাটাতে ব্যাংকটিকে ৭১৫ কোটি টাকা মূলধন দেওয়া হয়েছিল, যা সে সময় ব্যাংকটির মোট মূলধনের প্রায় ৬৬ শতাংশ ছিল।
এদিকে ১৭ আগস্ট আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানকে দুদকের চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয় সরকার। একই সঙ্গে জাহাঙ্গীর আলম খান ও সাজ্জাদ হোসেন ভূইয়াকে কমিশনার করা হয়। এর মধ্য দিয়ে ১৬৬ দিন পর দুদকের শীর্ষ নেতৃত্বের শূন্যতা পূরণ হয়। নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই প্রথম মামলা অনুমোদনের ঘটনা।









