
এস.এম. সোলায়মান গনি, কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়া ও সোনাহাট ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত দুধকুমার নদের ওপর ব্রিটিশ আমলে নির্মিত ঐতিহ্যবাহী সোনাহাট ব্রীজ এখন চরম ঝুঁকির মুখে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্রীজটির পাটাতন ও বিভিন্ন অংশ ভঙ্গুর হয়ে পড়লেও প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে প্রতিদিনই ভারী মালবাহী যানবাহন চলাচল করছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী ব্রীজটির উপর নির্ধারিত সীমার বেশি ওজনের যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ থাকলেও বাস্তবে তা কার্যত অমান্য হচ্ছে। ফলে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছে অসংখ্য ট্রাক ও ভারী যানবাহন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নাগেশ্বরী ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলার প্রায় ১০টি ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন এই ব্রীজ ব্যবহার করেন। এছাড়া ব্রীজটির পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত সোনাহাট স্থলবন্দরকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন শত শত মালবাহী ট্রাক চলাচল করছে। এতে ব্রীজের উপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে।
জানা গেছে, ২০২৫ সালের ৯ জানুয়ারি ভুরুঙ্গামারী উপজেলা প্রশাসন ও সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের যৌথ সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল—ব্রীজের উপর নির্ধারিত ওজনসীমার বেশি মালবাহী যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখতে হবে। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবে কার্যকর হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানায়, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র ৬ চাকার ট্রাকের পরিবর্তে ১০ চাকার ট্রাক অবাধে পারাপারের সুযোগ করে দিচ্ছে। এসব ট্রাকে প্রায় ৩০ টনেরও বেশি মালামাল বহন করা হয়, যা পুরাতন ব্রীজের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, এভাবে অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচল অব্যাহত থাকলে যে কোনো সময় ব্রীজ ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
সোনাহাট ইউনিয়নের বাসিন্দা মামুন বলেন, “সামনে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে অনেক কর্মজীবী মানুষ বাড়ি ফিরবেন। কিন্তু এভাবে ভারী যানবাহন চলাচল অব্যাহত থাকলে যে কোনো সময় ব্রীজটি ভেঙে পড়তে পারে। এতে ঈদকে ঘিরে মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।”
এ বিষয়ে ভুরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন জানান, “ব্রীজের উপর দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিধিনিষেধ অমান্য করলে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।”
অন্যদিকে কুড়িগ্রাম সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী নিজাম উদ্দিন জানান, পুরাতন ব্রীজটির দক্ষিণ পাশে নতুন একটি ব্রীজ নির্মাণাধীন রয়েছে এবং চলতি বছরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা। তবে জনদুর্ভোগ কমাতে পুরাতন ব্রীজটি ইতোমধ্যে কয়েক দফায় মেরামত করা হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগেই সোনাহাট ব্রীজে ভারী যানবাহন চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরি।