নালিতাবাড়ীর কালাকুড়া মাদরাসায় ভুয়া নিয়োগ, অফিস সহকারীর এমপিও বাতিল
- আপলোডের সময় : Sunday, October 4, 2026,

নালিতাবাড়ীর কালাকুড়া মাদরাসায় ভুয়া নিয়োগ, অফিস সহকারীর এমপিও বাতিল
জাফর আহাম্মদ
শেরপুর জেলা প্রতিনিধি
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার কালাকুড়া নেছারিয়া দাখিল মাদরাসার অফিস সহকারী মো. মোবারক হোসেনের নিয়োগ ভুয়া ও অবৈধ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁর নাম এমপিওভুক্ত তালিকা থেকে বাতিল করেছে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কালাকুড়া নেছারিয়া দাখিল মাদরাসায় অফিস সহকারী পদে দুইজন ব্যক্তি নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন। এর মধ্যে বৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া অফিস সহকারী মো. আবুবকর সিদ্দিক তাঁর পদ ও নিয়োগসংক্রান্ত বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেন। অভিযোগে তিনি মো. মোবারক হোসেনের নিয়োগের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তদন্তের দাবি জানান।
অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার ববি প্রশাসনিক উদ্যোগ নেন। পরে মোবারক হোসেনের নিয়োগসংক্রান্ত কাগজপত্র, রেজুলেশন, নিয়োগ প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়।
তদন্তে নিয়োগের ক্ষেত্রে গুরুতর অসঙ্গতি পাওয়া যায় এবং নিয়োগটি ভুয়া ও অবৈধ হিসেবে প্রতীয়মান হয়। পরবর্তীতে তদন্তের ফলাফল ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের ভিত্তিতে বিষয়টি মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়। অধিদপ্তরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মো. মোবারক হোসেনের নাম এমপিওভুক্ত তালিকা থেকে বাতিল করা হয়েছে।
অভিযোগকারী মো. আবুবকর সিদ্দিক দাবি করেন, তিনি মাদরাসাটির বৈধ অফিস সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তাঁর পদে তৎকালীন সহকারী সুপার মো. আব্দুস সামাদ গোপনে মোবারক হোসেনকে নিয়োগ দেন। পরবর্তীতে বিষয়টি জানতে পেরে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, অভিযোগটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পর্যায়ে যাচাই-বাছাইয়ের মধ্যে ছিল। তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার ববির প্রশাসনিক উদ্যোগে তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে যায়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও বিধিবিধান অনুসরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে কালাকুড়া নেছারিয়া দাখিল মাদরাসার তৎকালীন সহকারী সুপার মো. আব্দুস সামাদ মো. মোবারক হোসেনকে অফিস সহকারী পদে নিয়োগ দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তী তদন্তে ওই নিয়োগ অবৈধ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁর নাম এমপিও তালিকা থেকে বাতিল করা হয়।



















লেখাটি আপনার কেমন লাগলো?
মন্তব্য করতে সাইন-আপ বা লগইনের প্রয়োজন নেই - সরাসরি আপনার মতামত লিখুন।