
স্টাফ রিপোর্টার, রাসেল রাজ (চুয়াডাঙ্গা):
ভরা মৌসুমেও হাসি নেই চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা ও কার্পাসডাঙ্গা অঞ্চলের কৃষকদের মুখে। মাঠভরা সোনালী ধান থাকলেও তা ঘরে তোলা নিয়েই এখন চরম দুশ্চিন্তা। ধানের বাজারদরের তুলনায় শ্রমিকের মজুরি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় লাভ তো দূরের কথা, উল্টো লোকসানের মুখে পড়ছেন চাষিরা।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, নিজের জমির ধান কাটার খরচ জোগাতে অনেক কৃষকই এখন অন্যের জমিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে চাইছেন।
মাঠের বাস্তব চিত্র:
সরেজমিনে দেখা গেছে, কার্পাসডাঙ্গা ও দামুড়হুদা এলাকায় প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকায়। অথচ ধান কাটা ও মাড়াইয়ের জন্য একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি দিতে হচ্ছে ১,২০০ থেকে ১,৩০০ টাকা।
এর সঙ্গে সেচ, সার, বীজ ও পরিবহন খরচ যুক্ত হওয়ায় প্রতি বিঘা জমিতে কয়েক হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে কৃষকদের।
কৃষকদের হতাশা:
স্থানীয় এক কৃষক বলেন,
“এক মণ ধান বিক্রি করে একজন শ্রমিকের অর্ধেক দিনের মজুরিও ওঠে না। সারের দাম, তেলের দাম—সবই চড়া। এখন শ্রমিকের মজুরি যদি ১,৩০০ টাকা হয়, তাহলে আমরা চলবো কীভাবে?”
তিনি আরও বলেন,
“নিজের জমিতে চাষ করে লোকসান করার চেয়ে অন্যের জমিতে দিনমজুর খাটলে অন্তত কিছু টাকা হাতে আসে।”
সংকটের নেপথ্যে:
স্থানীয়দের মতে, ধান কাটার ভরা মৌসুমে শ্রমিকের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এই সুযোগে একশ্রেণির শ্রমিক মজুরি বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে বাজারে ধানের সরবরাহ বেশি দেখিয়ে পাইকাররা দাম কমিয়ে দিচ্ছে। ফলে দ্বিমুখী চাপে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।
সমাধানের দাবি:
কৃষক নেতারা বলছেন, সরকার যদি দ্রুত ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না করে এবং ভর্তুকি মূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি (যেমন হারভেস্টার) সরবরাহ না বাড়ায়, তাহলে কৃষকরা ধান চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন।
শেষ কথা:
ধানের মণ ৯০০ আর শ্রমিকের মজুরি ১৩০০—এই অসম সমীকরণ এখন চুয়াডাঙ্গার কৃষকদের জন্য বেঁচে থাকার লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের দাবি, অবিলম্বে সরকারিভাবে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে ধান ক্রয় শুরু করা হোক।