দৌলতপুরে পদ্মার পানি বেড়ে ৮০ হাজার মানুষ পানিবন্দি

প্রতিনিধির নাম:
  • আপলোডের সময় : Friday, September 11, 2026,
দৌলতপুরে পদ্মার পানি বেড়ে ৮০ হাজার মানুষ পানিবন্দি
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

Ad served by Google দ্বারা বিজ্ঞাপন

আপনার পঠন অভ্যাস এবং সাইটের কনটেন্টের উপর ভিত্তি করে এই বিজ্ঞাপনটি দেখানো হচ্ছে। এটি আমাদের সাইট পরিচালনায় সহায়তা করে।
ধন্যবাদ! আমরা এই বিজ্ঞাপনটি আপনাকে আর দেখাবো না।
দৌলতপুরে পদ্মার পানি বেড়ে ৮০ হাজার মানুষ পানিবন্দি

দৌলতপুরে পদ্মার পানি বেড়ে ৮০ হাজার মানুষ পানিবন্দি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদীর পানি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের প্রায় ৮০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। একই সঙ্গে প্রায় ৩৫০ হেক্টর ফসলি জমি প্লাবিত হয়ে বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দুই ইউনিয়নের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের ২৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্থানীয়ভাবে পাঠদান স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে পানিবন্দি মানুষ যাতে আশ্রয় নিতে পারেন, সে জন্য বিদ্যালয় ভবনগুলো খোলা রাখা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি, কৃষি অফিস ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে গত এক সপ্তাহ ধরে পদ্মা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। স্থানীয়দের দাবি, ভারতের ফারাক্কা বাঁধ খুলে দেওয়ার পর উজানের পানি ও বৃষ্টির পানি একসঙ্গে নেমে আসায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

Ad served by Google দ্বারা বিজ্ঞাপন

আপনার পঠন অভ্যাস এবং সাইটের কনটেন্টের উপর ভিত্তি করে এই বিজ্ঞাপনটি দেখানো হচ্ছে। এটি আমাদের সাইট পরিচালনায় সহায়তা করে।
ধন্যবাদ! আমরা এই বিজ্ঞাপনটি আপনাকে আর দেখাবো না।

রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজ মণ্ডল জানান, তার ইউনিয়নে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অনেক বাড়িঘরে পানি ঢুকে গেছে। যেসব বাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে, সেসব পরিবারের সদস্যদের নৌকায় করে তুলনামূলক নিরাপদ ও উঁচু এলাকায় নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ইউনিয়নের অধিকাংশ রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় মানুষের চলাচলের প্রধান অবলম্বন এখন ডিঙি ও ছোট নৌকা। বেশ কিছু বাড়িঘর সম্পূর্ণ প্লাবিত হয়েছে এবং অধিকাংশ বাড়ির চারপাশে পানি উঠেছে। নিরাপত্তার কারণে স্কুলগুলোও বন্ধ রাখা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

Ad served by Google দ্বারা বিজ্ঞাপন

আপনার পঠন অভ্যাস এবং সাইটের কনটেন্টের উপর ভিত্তি করে এই বিজ্ঞাপনটি দেখানো হচ্ছে। এটি আমাদের সাইট পরিচালনায় সহায়তা করে।
ধন্যবাদ! আমরা এই বিজ্ঞাপনটি আপনাকে আর দেখাবো না।

চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মান্নান উদ্দিন বলেন, ইউনিয়নের ১৯টি গ্রামের মধ্যে ১৭টি গ্রামের নিম্নাঞ্চলের ঘরবাড়িতে পানি উঠেছে। এতে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এরই মধ্যে ইউনিয়নের প্রায় সব রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, ইউনিয়নের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। পানি যেভাবে বাড়ছে, তাতে আগামী এক দিনের মধ্যে আরও অনেক বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করতে পারে। প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

টঙ্গীতে ছিনতাইকারী ধরতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে আহত পুলিশ কর্মকর্তা টঙ্গীতে ছিনতাইকারী ধরতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে আহত পুলিশ কর্মকর্তা

চেয়ারম্যান জানান, গত বুধবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গত মানুষের মধ্যে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, উজানের ঢল ও অতিরিক্ত বৃষ্টিই নদীর পানি বৃদ্ধির প্রধান কারণ।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত ২ সেপ্টেম্বর থেকে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানি দ্রুত বাড়তে শুরু করে। এক সপ্তাহে নদীর পানি প্রায় ৮৮ সেন্টিমিটার বেড়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানি বিপৎসীমার প্রায় ৯২ সেন্টিমিটার নিচে ছিল। তবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় আগামী কয়েক দিনে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, দুই ইউনিয়নে প্রায় ৩৫০ হেক্টর ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। এসব জমিতে থাকা আমন ধান, কলা, মরিচসহ বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি আরও বাড়লে কৃষি খাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পানিবন্দি মানুষের মধ্যে বিশুদ্ধ খাবার পানি, শুকনো খাবার ও গো-খাদ্যের সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উপজেলা প্রশাসন দুর্গত এলাকার পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে। পাশাপাশি পানিবন্দি মানুষের মধ্যে বিশুদ্ধ পানি, খাবার ও চিকিৎসাসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম চলছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মুশতাক আহমেদ ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ফারুক আহমেদ বলেন, চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় রাস্তাঘাটও ডুবে গেছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে শিক্ষার্থীদের স্কুলে আসা বন্ধ রেখেছেন। তবে সরাসরি পাঠদান বন্ধ থাকলেও শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আসাউদ্দৌলা বলেন, উজান থেকে নেমে আসা পানি ও অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে পদ্মার পানি বেড়েছে। প্রতিবছরই দৌলতপুরের রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারীর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। বর্তমানে বিপৎসীমা ১৩ দশমিক ৮০ মিটার এবং নদীর পানি ১৩ মিটারের আশপাশে রয়েছে। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পানি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

শেয়ার করুন:

লেখাটি আপনার কেমন লাগলো?

মন্তব্য করতে সাইন-আপ বা লগইনের প্রয়োজন নেই - সরাসরি আপনার মতামত লিখুন।

একটি মন্তব্য লিখুন

আমার সকাল ২৪  ই – পেপার

এ সংক্রান্ত