দৌলতপুরে কবর খুঁড়ে পীর শামিমের দেহাবশেষ সরানোর ঘটনায় মামলা
- আপলোডের সময় : Sunday, September 6, 2026,

দৌলতপুরে কবর খুঁড়ে পীর শামিমের দেহাবশেষ সরানোর ঘটনায় মামলা
নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে কবর খুঁড়ে আলোচিত পীর হিসেবে পরিচিত আব্দুর রহমান ওরফে শামিমের দেহাবশেষ তুলে তাঁর প্রতিষ্ঠিত দরবার শরিফে নিয়ে পুনরায় দাফনের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। শনিবার রাতে নিহতের ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলাটি করেন।
ঘটনার পর অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শামিমের কবরস্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় গ্রামবাসীরাও কবরটি পাহারা দিচ্ছেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কবরটি পাকা করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয়রা জানান, জীবিত অবস্থায় শামিম তাঁর প্রতিষ্ঠিত দরবার শরিফ প্রাঙ্গণে সমাহিত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। মৃত্যুর পর তাঁর অনুসারীদের একটি অংশও সেখানে দাফনের দাবি জানিয়েছিল। তবে বিভিন্ন জটিলতার কারণে পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁকে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দিনগত রাতের কোনো একসময় উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকার দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর কবরস্থান থেকে শামিমের দেহাবশেষ তুলে নেওয়া হয়। পরে তা তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘শামিমি বাবার দরবার শরিফ’ প্রাঙ্গণে নিয়ে পুনরায় দাফন করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
শনিবার সকালে বিষয়টি জানতে পারেন শামিমের স্বজনরা। খবর পেয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পুরোনো কবরটি খোঁড়া অবস্থায় দেখতে পান। পরে প্রশাসনের নির্দেশে দরবার শরিফ প্রাঙ্গণে খোঁড়া নতুন কবর থেকে শামিমের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার ‘৫০০ বিঘা মাঠ’ নামে পরিচিত কবরস্থানে তাঁর দেহাবশেষ পুনরায় দাফন করা হয়।
আগের হত্যাকাণ্ডের ঘটনা
এর আগে চলতি বছরের ১১ এপ্রিল দুপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে শামিমের দরবারে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ সময় তাঁকে মারধর করে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরদিন ১২ এপ্রিল ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকার একটি ঈদগাহে জানাজা শেষে দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
শামিম হত্যার ঘটনায় তাঁর বড় ভাই বাদী হয়ে ১৩ এপ্রিল রাতে দৌলতপুর থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়। এজাহারভুক্ত চার আসামিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও তাঁরা বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।
তদন্ত করছে পুলিশ
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কবর থেকে দেহাবশেষ সরিয়ে নেওয়ার আলামত পায়। পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর নির্দেশে এবং স্থানীয়দের সহায়তায় দরবার শরিফ প্রাঙ্গণ থেকে দেহাবশেষ উত্তোলন করে আগের কবরস্থানেই পুনরায় দাফন করা হয়।
তিনি বলেন, রাতের আঁধারে কারা কবর খুঁড়ে দেহাবশেষ সরিয়ে নিয়েছে, তা শনাক্তে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত করছে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
ভেড়ামারা-দৌলতপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন বলেন, দেহাবশেষ পুনরায় দাফনের পর অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কবরস্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। কারা কবর খুঁড়ে দেহাবশেষ সরিয়ে নিয়েছিল, তা তদন্ত করে শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কবরটি পাকা করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে পরিবার এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করবে বলে জানা গেছে।
দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, পুরোনো কবর খুঁড়ে দেখা যায়, সেখানে শামিমের দেহাবশেষ নেই। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দরবার শরিফে থাকা দেহাবশেষ উদ্ধার করে মূল কবরস্থানে পুনরায় দাফন করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।



















লেখাটি আপনার কেমন লাগলো?
মন্তব্য করতে সাইন-আপ বা লগইনের প্রয়োজন নেই - সরাসরি আপনার মতামত লিখুন।