দিরাইয়ে গোচারণ ভূমি দখলের অভিযোগ, প্রতিবাদকারীদের ওপর হামলার দাবি
- আপলোডের সময় : Monday, August 24, 2026,

দিরাইয়ে গোচারণ ভূমি দখলের অভিযোগ, প্রতিবাদকারীদের ওপর হামলার দাবি
দিরাই প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার রফিনগর ইউনিয়নের কিত্তাগাঁও গ্রামে প্রায় ২০ একর পতিত জমি গোচারণ ভূমি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ওই জমি দখলের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। এ বিরোধের জেরে দুইজনকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দিরাই থানায় লিখিত অভিযোগের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছেও লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগকারী নির্মল তালুকদার (৫৯) রফিনগর ইউনিয়নের কিত্তাগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। হামলার ঘটনায় তিনি ও একই গ্রামের মনোরঞ্জন তালুকদার (৫০) আহত হয়েছেন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেন।
নির্মল তালুকদারের দেওয়া অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রফিনগর ইউনিয়নের কিত্তাগাঁও ও সুনামপুর গ্রামের সংলগ্ন নয়াগাঁও মৌজার জেএল নম্বর-১০-এর ৩ নম্বর দাগে প্রায় ২০ একর পতিত জমি রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি খেলার মাঠ, গোচারণ ভূমি ও কৃষিকাজসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে ব্যবহার করে আসছেন তারা। বর্তমানে বর্ষার পানিতে জমিটি নিমজ্জিত রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২১ আগস্ট দুপুর ২টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি ভিটবালু বোঝাই স্টিলের নৌকা, পাইপ ও অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে ওই জমিতে যান এবং বালু দিয়ে জমি ভরাটের প্রস্তুতি নেন। এ সময় নির্মল তালুকদারসহ স্থানীয়রা এতে আপত্তি জানান। পরে বালু ভরাটের কাজ বন্ধ করে নৌকা ও সরঞ্জাম নিয়ে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। যাওয়ার সময় সময়-সুযোগমতো দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর পরদিন ২২ আগস্ট দুপুর ২টার দিকে বাংলাবাজার এলাকায় নির্মল তালুকদার ও মনোরঞ্জন তালুকদারকে দলবদ্ধভাবে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় লোহার রড, কাঠের রোল ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাদের ওপর হামলা করা হয় বলে অভিযোগকারীর দাবি। এতে তারা শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হন।
এ ঘটনায় নির্মল তালুকদার বাদী হয়ে দিরাই থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। পরে ২৩ আগস্ট একই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজীব সরকারের কাছেও লিখিত অভিযোগ দেন তিনি। অভিযোগে জমিটি দখলের চেষ্টা বন্ধ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
কিত্তাগাঁও গ্রামের পলাশ তালুকদার বলেন, “প্রায় ১০০ বছর ধরে গ্রামের মানুষ এই জায়গাটি গোচারণ ভূমি, খেলার মাঠ ও কৃষিকাজে ব্যবহার করে আসছেন। গত শুক্রবার রফিনগর গ্রামের কয়েকজন প্রায় তিন কিলোমিটার দূর থেকে নৌকায় করে ভিটবালু নিয়ে এসে জায়গাটি দখলের চেষ্টা করেন। গ্রামবাসী বাধা দিলে তারা চলে যান। যাওয়ার সময় হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। পরে বাংলাবাজারে আমাদের গ্রামের লোকজনকে পেয়ে মারধর করা হয়েছে। আমরা প্রশাসনের কাছে সঠিক বিচার চাই।”
তবে অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন দাবি করেছেন অভিযুক্ত পক্ষের নুর হামিদ। তিনি বলেন, “জায়গাটি খাস নয়। আমরা ২০১২ সালে ভাটিপাড়ার জমিদার বাড়ির বংশধরদের কাছ থেকে জমিটি কিনেছি।”
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।”
দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজীব সরকার বলেন, “বিষয়টি নিয়ে এমপি মহোদয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। আশা করি, আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে।”
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা জমিটির প্রকৃত মালিকানা ও ব্যবহার-অধিকার যাচাই করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।











লেখাটি আপনার কেমন লাগলো?
মন্তব্য করতে সাইন-আপ বা লগইনের প্রয়োজন নেই - সরাসরি আপনার মতামত লিখুন।