দিনাজপুর রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে ডলার প্রতারণার অভিযোগে একজন গ্রেপ্তার
- আপলোডের সময় : Sunday, August 30, 2026,

দিনাজপুর রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে ডলার প্রতারণার অভিযোগে একজন গ্রেপ্তার
সাজ্জাদুর রহমান
বিশেষ প্রতিনিধি, আমার সকাল২৪
দিনাজপুর
দিনাজপুরে ডলার প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে রশিদুল (৫২) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও সাইবার শাখার সমন্বয়ে গঠিত পুলিশের একটি দল।
দিনাজপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আনোয়ার হোসেনের তত্ত্বাবধানে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দিনাজপুর সদর থানার রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার রশিদুল খানসামা উপজেলার ২ নম্বর ভেড়ভেড়ী ইউনিয়নের টংগুয়া গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে দিনাজপুর ও নীলফামারী জেলায় ডলার প্রতারণার অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি খানসামা থানার ২ নম্বর ভেড়ভেড়ী ইউনিয়নের টংগুয়া গ্রামের চেয়ারম্যানপাড়ায় সাইফুল ইসলামের বাড়িতে ডলার প্রতারণার অভিযোগে অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে ডিবি ও সাইবার শাখার সদস্যরা তৎপরতা শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় রশিদুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রশিদুল ডলার প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি প্রতারকচক্রের কার্যক্রম ও কৌশল সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চক্রের সদস্যরা দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষের সঙ্গে প্রথমে বন্ধুত্বপূর্ণ ও বিশ্বস্ততার সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে নিজেদের কখনো দিনমজুর, রিকশাচালক, অটোরিকশাচালক বা কারখানার শ্রমিক পরিচয় দিয়ে জানান, তারা কিছু ডলার কুড়িয়ে পেয়েছেন। তবে এসব ডলার কীভাবে বিক্রি বা টাকায় রূপান্তর করতে হয়, তা তারা জানেন না বলে দাবি করেন।
এরপর কম দামে ডলার বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের নির্দিষ্ট স্থানে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে চক্রের অন্য সদস্যরা ডিবি বা সাদা পোশাকের পুলিশের পরিচয়ে হাজির হন। ডলার কেনাবেচার সময় ভুক্তভোগীকে অবৈধভাবে ডলার কেনাবেচার অভিযোগে গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী হাতিয়ে নেওয়া হয় বলে পুলিশের ভাষ্য।
পুলিশ আরও জানায়, অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীকে জেলে পাঠানোর ভয় দেখিয়ে পরবর্তী সময়ে আরও টাকা আদায় করা হয়। একই সঙ্গে বিষয়টি কাউকে জানালে ক্ষতির হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চক্রটির সঙ্গে দিনাজপুর, নীলফামারী ও ঠাকুরগাঁও জেলার বিভিন্ন এলাকার কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, প্রতারকচক্রের সদস্যরা সাধারণত পাশাপাশি বা সীমান্তবর্তী থানার এলাকাগুলোকে প্রতারণার জন্য বেছে নেন। এতে পুলিশের উপস্থিতি টের পেলে দ্রুত এক থানা এলাকা থেকে অন্য এলাকায় পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে।
গ্রেপ্তার রশিদুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।











লেখাটি আপনার কেমন লাগলো?
মন্তব্য করতে সাইন-আপ বা লগইনের প্রয়োজন নেই - সরাসরি আপনার মতামত লিখুন।