ঢাকার ৪১৬ বছর পূর্তি: ডিএসসিসির উদ্যোগে বর্ণিল ‘ঢাকা শোভাযাত্রা’
- আপলোডের সময় : Saturday, August 29, 2026,

ঢাকার ৪১৬ বছর পূর্তি: ডিএসসিসির উদ্যোগে বর্ণিল ‘ঢাকা শোভাযাত্রা’
জিহাদুল ইসলাম
বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা
ঢাকার সমৃদ্ধ ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে পরিচয় করিয়ে দিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণিল ‘ঢাকা শোভাযাত্রা’। ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উৎসবের অংশ হিসেবে আয়োজিত এ শোভাযাত্রায় হাজারো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মুখর হয়ে ওঠে পুরান ঢাকা।
শুক্রবার পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজার থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে নগর ভবনে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রার পুরো পথজুড়ে নানা বয়সী মানুষের পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
ইতিহাস-ঐতিহ্যের বর্ণিল প্রদর্শনী
শোভাযাত্রায় ঢাকার প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি ও নগরজীবনের নানা অনুষঙ্গ তুলে ধরা হয়। এতে লালবাগ কেল্লা, আহসান মঞ্জিল, ঐতিহাসিক ঢাকা গেট, লালকুঠি, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, তারা মসজিদ, ঢাকেশ্বরী মন্দির ও বৌদ্ধ মন্দিরের প্রতিকৃতি প্রদর্শন করা হয়।
শোভাযাত্রার অন্যতম আকর্ষণ ছিল ঢাকার পত্তন ও বিকাশের সঙ্গে সম্পৃক্ত ঐতিহাসিক চরিত্রগুলোর রূপায়ণ। রানি ভিক্টোরিয়া, নবাব খাজা আহসানউল্লাহ, নীলা রাগ (রায়), নিকোলাস পোগোজ, জিন্নাবাই ও পরিবিবির আদলে সাজেন অংশগ্রহণকারীরা। এর মাধ্যমে ঢাকার অতীত ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে প্রতীকীভাবে তুলে ধরা হয়।
এ ছাড়া পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী খাদ্যসংস্কৃতির অংশ হিসেবে বাকরখানি, নান্না বিরিয়ানি ও বিউটি লাচ্ছির প্রতিকৃতি প্রদর্শন করা হয়। অতীতের যাতায়াত ব্যবস্থার স্মৃতিবাহী স্টিমার, ঘোড়ার গাড়ি ও পালকির প্রদর্শনীও শোভাযাত্রায় বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করে।
মাসব্যাপী ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উৎসব
শোভাযাত্রা শেষে নগর ভবনে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন ডিএসসিসির প্রশাসক। তিনি বলেন, “ঢাকার প্রতি নাগরিকদের ভালোবাসা, মমত্ববোধ ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত করতেই আমাদের এই আয়োজন। ঢাকার ইতিহাস-ঐতিহ্যকে নগরবাসী ও বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে আমরা মাসব্যাপী ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উৎসবের সূচনা করেছি।”
তিনি এ আয়োজনে নগরবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের জন্য ডিএসসিসির পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানান।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উৎসবের মাধ্যমে রাজধানীর ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতি নতুন প্রজন্মের আগ্রহ আরও বাড়বে এবং ঢাকার ঐতিহ্য সংরক্ষণে নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হবে।










