ঠাকুরগাঁও ডিবির আট মাসের অভিযানে মাদক, অস্ত্র ও সংঘবদ্ধ অপরাধে বড় সাফল্য
- আপলোডের সময় : Friday, August 14, 2026,

ঠাকুরগাঁও ডিবির আট মাসের অভিযানে মাদক, অস্ত্র ও সংঘবদ্ধ অপরাধে বড় সাফল্য
দিনাজপুর প্রতিনিধি
ঠাকুরগাঁও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত মাদক, অস্ত্র, সন্ত্রাস, ডাকাতি ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক বিশেষ অভিযান চালিয়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। পুলিশ সুপার ঠাকুরগাঁওয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং ডিবির অফিসার ইনচার্জ এটিএম গোলাম রসুলের নেতৃত্বে পরিচালিত এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার এবং একাধিক চিহ্নিত অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ডিবি সূত্রে জানা গেছে, আট মাসে জেলার বিভিন্ন এলাকায় তথ্যভিত্তিক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মাদকবিরোধী ৪৮টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় ৫৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে ২৭ বোতল বিদেশি মদ, ৫০ বোতল ফেনসিডিল, ১ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা, ৩০০ পিস ট্যাপেন্টাডল, ১ কেজি গাঁজা, মাদক বিক্রির ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা এবং ২৮৪ লিটার পেট্রোল। এছাড়া ক্যাসিনো-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে ব্যবহৃত ১৫টি মোবাইল ফোন ও ৮৯টি সিমকার্ড জব্দ করা হয়েছে।
অস্ত্র উদ্ধারের ক্ষেত্রেও ডিবি উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে। বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বালিয়াপুকুর গ্রামের একটি কবরস্থান থেকে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি ৭ এমএম পিস্তল, একটি ৭.৬৫ পিস্তল, চারটি ম্যাগাজিন এবং ১৭ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
ডিবির অভিযানে জেলার তিন শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে বালিয়াডাঙ্গীর মো. মোজাম্মেল হক ওরফে মোজামের বিরুদ্ধে ৩২টি, পীরগঞ্জের মো. ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে ৩০টি এবং মো. মোস্তফা আলী ওরফে আকাশ আহমেদের বিরুদ্ধে ২৭টি মামলা রয়েছে বলে ডিবি সূত্র জানিয়েছে।
বিশেষ অভিযানে আন্তঃজেলা সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের চার সদস্যকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ দাবি করেছে, তাদের গ্রেপ্তারের পর থেকে ঠাকুরগাঁও জেলায় ডাকাতির ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
এছাড়া গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রংপুর থেকে ঠাকুরগাঁওয়ে এসে অবস্থান নেওয়া শীর্ষ সন্ত্রাসী মেরীল সুমনকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়। নির্বাচনী নাশকতার আশঙ্কায় তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
জনশৃঙ্খলা রক্ষায় সদর থানা এলাকায় বিকট শব্দ সৃষ্টিকারী দুটি মোটরসাইকেল আটক করা হয়। পরে ট্রাফিক পুলিশের সহায়তায় একটি মোটরসাইকেলকে ৩২ হাজার টাকা এবং অপরটিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
পৃথক মাদকবিরোধী অভিযানে কয়েকজন মাদকসেবীকে গ্রেপ্তার করে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে এক নারীকে তিন মাস এবং এক পুরুষকে দুই মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পৃথক অভিযানে ছয়টি গোপাল ঠাকুরের মূর্তি, পাঁচটি সাদা রঙের কয়েন এবং একটি পিতলের কলস উদ্ধার করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এটিএম গোলাম রসুল দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ঠাকুরগাঁও ডিবির কার্যক্রমে গতি এসেছে। নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি, তথ্যভিত্তিক অভিযান এবং দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে।
ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, মাদক, অস্ত্র, সন্ত্রাস, ডাকাতি ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আরও জোরদার তৎপরতা চালানো হবে।










