ট্রাইব্যুনালে আনার সময় হাতকড়া-হেলমেট-ভেস্ট পরানো থেকে অব্যাহতি চান জিয়াউল আহসান
- আপলোডের সময় : Wednesday, September 2, 2026,

ট্রাইব্যুনালে আনার সময় হাতকড়া-হেলমেট-ভেস্ট পরানো থেকে অব্যাহতি চান জিয়াউল আহসান
নিজস্ব প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার সময় হাতে হাতকড়া, মাথায় হেলমেট ও গায়ে ভেস্ট পরানো থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন সাবেক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান। তিনি ট্রাইব্যুনালের কাছে সুবিচারও দাবি করেন।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-১-এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে এসব কথা বলেন জিয়াউল আহসান।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত শতাধিক গুম-খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় একমাত্র আসামি জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। এদিন মামলায় দশম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন আব্বাস মল্লিক। তিনি তার ভাই আলকাছ মল্লিককে হত্যার জন্য জিয়াউল আহসানকে দায়ী করে তার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।
জবানবন্দি শেষে আব্বাস মল্লিককে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ মিজানুর রহমান ও সাহিদুর রহমান। জেরা শেষে পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ৮ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।
এরপর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে কথা বলার অনুমতি চান জিয়াউল আহসান। অনুমতি পেয়ে তিনি বলেন, সেনাবাহিনীতে কর্মরত থাকার সময় প্রশিক্ষণের কারণে তার কোমর ও ঘাড়ে ব্যথা হয়েছে। কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে আনার সময় হাতকড়া, হেলমেট ও ভেস্ট পরানোয় তিনি অস্বস্তি বোধ করেন এবং এগুলো থেকে অব্যাহতি চান।
বিষয়টি নিয়ে প্রসিকিউশনের মতামত জানতে চাইলে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, আসামিকে কীভাবে কারাগার থেকে আনা হবে, সেটি জেল কর্তৃপক্ষের এখতিয়ার। নিরাপত্তাজনিত কারণেই তাকে এভাবে আনা হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।
ট্রাইব্যুনাল জিয়াউল আহসানকে জানায়, নিরাপত্তার স্বার্থেই তাকে এভাবে আনা হচ্ছে বলে প্রসিকিউশন জানিয়েছে।
জবাবে জিয়াউল আহসান বলেন, প্রিজনভ্যান থেকে ট্রাইব্যুনালের হাজতখানার দূরত্ব মাত্র পাঁচ গজ এবং গাড়ি থেকে নামানোর সময় প্রায় ২০ জন পুলিশ সদস্য উপস্থিত থাকেন। তাই হেলমেট, হাতকড়া ও ভেস্ট পরানোর প্রয়োজন নেই বলে তিনি দাবি করেন।
এ সময় ট্রাইব্যুনাল বলেন, পাঁচ গজ নয়, এক গজ দূর থেকেও কেউ চাইলে স্নাইপারে টার্গেট করতে পারেন।
জিয়াউল আহসান জবাবে বলেন, ট্রাইব্যুনালে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রয়েছে এবং সেখানে কাউকে সহজে টার্গেট করার সুযোগ নেই।
পরে হাতকড়া ও ভেস্ট পরানো থেকে অব্যাহতি চেয়ে লিখিত আবেদন করার পরামর্শ দেন বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।











লেখাটি আপনার কেমন লাগলো?
মন্তব্য করতে সাইন-আপ বা লগইনের প্রয়োজন নেই - সরাসরি আপনার মতামত লিখুন।