জ্বালানি সংকটে শিল্পের জুন-জুলাইয়ের বিল ১২ মাসে পরিশোধের সুযোগ চায় বিকেএমইএ
- আপলোডের সময় : Sunday, August 23, 2026,

জ্বালানি সংকটে শিল্পের জুন-জুলাইয়ের বিল ১২ মাসে পরিশোধের সুযোগ চায় বিকেএমইএ
জ্বালানি সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়া শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য জুন ও জুলাই মাসের গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল আগামী ১২ মাসে কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ চেয়েছে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)। একই সঙ্গে সংকটকালীন বকেয়া বিলের কারণে কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠানের গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করারও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেএমইএর নারায়ণগঞ্জ জোনের সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত জরুরি মতবিনিময় সভায় এসব দাবি তুলে ধরা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।
সভায় উদ্যোক্তারা জানান, সাম্প্রতিক দুর্ঘটনা ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাবে প্রায় এক মাস ধরে জ্বালানি সংকটে অনেক কারখানার উৎপাদন বন্ধ বা ব্যাহত হয়েছে। এতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। উৎপাদন কমলেও গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল, শ্রমিকের মজুরি ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় অব্যাহত থাকায় সংকট আরও গভীর হয়েছে।
এ অবস্থায় নিয়মিত বকেয়ার পাশাপাশি জুন ও জুলাই মাসের গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল ১২ মাসের কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নের দাবি
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় অবিলম্বে সব ধরনের অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার দাবি জানিয়েছেন শিল্পমালিকরা। একই সঙ্গে এসব সংযোগের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
উদ্যোক্তাদের মতে, অবৈধ সংযোগ বন্ধ করা গেলে গ্যাসের অপচয় কমবে এবং বৈধ শিল্পগ্রাহকদের সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হবে। এতে গ্যাস ব্যবস্থাপনায় সিস্টেম লসও কমে আসবে।
শিল্পে গ্যাস সরবরাহে অগ্রাধিকার চায় উদ্যোক্তারা
সংকটকালীন সময়ে গ্যাস ব্যবহারে অগ্রাধিকার নির্ধারণেরও দাবি জানিয়েছেন শিল্পোদ্যোক্তারা। তাদের মতে, শিল্প উৎপাদন সচল রাখতে কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কারখানাগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে গণপরিবহনে প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রেখে ব্যক্তিমালিকানাধীন গাড়িতে সিএনজি সরবরাহ বন্ধ রাখার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
প্রতি সপ্তাহে জ্বালানি পরিস্থিতি জানানোর দাবি
জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। সংকট পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহের সর্বশেষ পরিস্থিতি জনগণ ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে জানানোর দাবি করা হয়।
উদ্যোক্তারা বলেন, নির্ভরযোগ্য তথ্যের অভাবে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদন ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনা ঠিকভাবে করতে পারছে না। নিয়মিত তথ্য প্রকাশ করা হলে প্রতিষ্ঠানগুলো আগাম সিদ্ধান্ত নিতে পারবে এবং ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তাও কমবে।
খেলাপি ঋণের সময়সীমা ১২ মাস করার দাবি
সভায় জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি রপ্তানি বাণিজ্যে বিদ্যমান চাপ নিয়েও আলোচনা হয়। উদ্যোক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রতিকূল পরিস্থিতিতে রপ্তানিমুখী শিল্প এমনিতেই চাপে রয়েছে। এর সঙ্গে জ্বালানি সংকট যুক্ত হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠানের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা আরও কমেছে।
এ অবস্থায় ঋণ খেলাপি হিসেবে ঘোষণার বর্তমান ছয় মাসের সময়সীমা বাড়িয়ে ১২ মাস করার দাবি জানান তারা।
উদ্যোক্তাদের মতে, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি সাময়িক আর্থিক সংকট মোকাবিলায় সরকারের নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে এর নেতিবাচক প্রভাব রপ্তানি, কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক শিল্প খাতে পড়তে পারে।









