
রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক গণসমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাই আন্দোলনের কোনো একক ‘মাস্টারমাইন্ড’ নেই। তিনি দাবি করেন, এ আন্দোলনের কৃতিত্ব কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের নয়; এটি সমগ্র জনগণের আন্দোলন।
বুধবার (৫ আগস্ট) ১১ দল আয়োজিত ওই সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই আন্দোলনের প্রকৃত নেতৃত্ব দিয়েছেন ছাত্র-তরুণ সমাজ এবং আন্দোলনের পেছনে ছিল হাজার হাজার নির্যাতিত মানুষের আত্মত্যাগ। তিনি বলেন, এই কৃতিত্ব নিয়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েন সৃষ্টি করা উচিত নয়।
তিনি আরও বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত যারা নিহত, আহত, কারাবরণ, গুম, নির্যাতন বা মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগ জাতি স্মরণ করবে। শহীদদের কোনো দলের সম্পদ নয়, বরং জাতির সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি তাদের নিয়ে বিভাজনমূলক রাজনীতি না করার আহ্বান জানান।
জামায়াত আমির আন্দোলনে আহতদের উন্নত চিকিৎসা, পুনর্বাসন, শহীদ পরিবারকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা এবং সংশ্লিষ্ট হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানান।
সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আন্দোলনের সময় দেওয়া অনেক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকারকে আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, মূল্যবৃদ্ধিকে যৌক্তিক প্রমাণ করতে আগে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দ্রব্যমূল্য, জ্বালানি সংকট ও জনদুর্ভোগ কমাতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যেখানে জনগণের অধিকার ক্ষুণ্ন হবে, অন্যায়-অবিচার ও দমন-পীড়ন চলবে, সেখানে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা ও জনগণের অধিকারভিত্তিক নতুন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলেও তিনি ঘোষণা দেন।
সমাবেশে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেন, সরকার যেন বিভেদ সৃষ্টি না করে এবং বিদেশি প্রভাবমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে রাজনৈতিক ঐক্য প্রয়োজন।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ গণভোটের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দাবি জানান। জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, জনগণের অধিকার, গণতান্ত্রিক সংস্কার এবং মৌলিক সেবা নিশ্চিত করার লড়াই অব্যাহত থাকবে।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও সমাবেশে বক্তব্য দেন।
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ মহানগর জামায়াতের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীন, কামাল হোসাইন, হাফেজ রাশেদুল ইসলাম, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, আমার বাংলাদেশ পার্টির যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত উল্লাহ টুটুল এবং জাগপার সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন প্রমুখ।