জামিন পাচ্ছেন না সাবেক মেজর সাদিক, এবার আরেক মামলায় গ্রেপ্তার
- আপলোডের সময় : Tuesday, August 18, 2026,

জামিন পাচ্ছেন না সাবেক মেজর সাদিক, এবার আরেক মামলায় গ্রেপ্তার
সন্ত্রাসবিরোধী আইনের খিলক্ষেত থানার একটি মামলায় সাবেক মেজর মো. সাদিকুল হককে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। এর ফলে আগের মামলায় জামিন পাওয়ার পরও আপাতত মুক্তি পাচ্ছেন না তিনি।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই তারেকুর রহমান।
সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত মেজর সাদিককে ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর সামরিক আদালত তিন মাসের কারাদণ্ড দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর ভাটারা থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গত ২৯ জুন ওই মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান তিনি।
এর মধ্যে গত ৭ আগস্ট ভাটারা থানার একটি ব্যক্তিগত গাড়ি পোড়ানোর মামলায় সাদিককে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে গাড়িটি পোড়ানো হয়। তদন্তে ঘটনায় সাদিকের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তবে শুনানিতে সাদিকের আইনজীবী এইচ এম আল-আমিন বলেন, ঘটনার সময় তার মক্কেল কারাগারে ছিলেন। তাই কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি কীভাবে গাড়ি পোড়ানোর ঘটনায় জড়িত হলেন, সে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
পরে এ বিষয়ে ভাটারা থানার ওসি ও তদন্ত কর্মকর্তার কাছে ব্যাখ্যা চান আদালত। তদন্ত কর্মকর্তা লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার পর তা পর্যালোচনা করে মেজর সাদিককে ওই মামলায় গ্রেপ্তার না দেখানোর আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম।
এরপর সাদিকের আইনজীবী জানিয়েছিলেন, অন্য কোনো মামলায় আটকাদেশ না থাকায় তার মুক্তিতে বাধা নেই। কিন্তু এর পরপরই খিলক্ষেত থানার নতুন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়।
মঙ্গলবার শুনানির জন্য মেজর সাদিককে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, গত বছরের ১৭ মে দুপুর ২টার দিকে খিলক্ষেত বাজারসংলগ্ন এলাকায় নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সময় সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর তারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ও সুনাম ক্ষুণ্ন এবং ঢাকা সেনানিবাসের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার উদ্দেশ্যে ‘সহযোদ্ধা’ নামের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন।
এ ঘটনায় ঢাকা সেনানিবাসের সদর দপ্তর লজিস্টিকস এরিয়ার আজিজুল ইসলাম পরদিন খিলক্ষেত থানায় মামলা করেন।










