জামালপুর ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে প্রসূতির সিজার ও নবজাতকের মৃত্যু, ভুল চিকিৎসার অভিযোগ
- আপলোডের সময় : Wednesday, August 26, 2026,

জামালপুর ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে প্রসূতির সিজার ও নবজাতকের মৃত্যু, ভুল চিকিৎসার অভিযোগ
শাহিন আলম হৃদয়
বিশেষ প্রতিনিধি
জামালপুর ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে এক প্রসূতির সিজারিয়ান অপারেশনের পর নবজাতকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসায় অবহেলা ও ভুল সিদ্ধান্তের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে জামালপুরের সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ওই প্রসূতি গর্ভাবস্থায় মাদারগঞ্জের আল-তাসরিফ জেনারেল হাসপাতালে নিয়মিত চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত ১৫ জুলাই সকালে গর্ভের শিশুর নড়াচড়া কমে গেলে মাদারগঞ্জের নতুনদেশ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো হয়। পরীক্ষায় অ্যামনিওটিক ফ্লুইড ইনডেক্স (AFI) ২ সেন্টিমিটার পাওয়া যায় বলে পরিবার জানিয়েছে।
ওই দিন বিকেলে প্রসূতিকে জামালপুর ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে রাত ৮টার দিকে ডা. রাবেয়া বসরী তার সিজারিয়ান অপারেশন করেন। অপারেশনের পর ১ কেজি ৭০০ গ্রাম ওজনের নবজাতকের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে প্রথমে জামালপুর সদর হাসপাতাল এবং পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ জুলাই রাতে নবজাতকটির মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় গত ১৯ জুলাই প্রসূতির ভাই সাহেল করিম জামালপুরের সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে চিকিৎসাসেবা নিয়ে তিনটি বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, প্রসূতির AFI মাত্র ২ সেন্টিমিটার থাকা এবং হাসপাতালে NICU সুবিধা না থাকা সত্ত্বেও তাকে উন্নত চিকিৎসা সুবিধাসম্পন্ন হাসপাতালে রেফার না করে সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়।
এ ছাড়া অস্ত্রোপচারের সময় প্রসূতি ব্যথার মধ্যে ধর্মীয় দোয়া পড়লে ওটিতে উপস্থিত চিকিৎসাকর্মীদের কেউ কেউ তা নিয়ে অসংবেদনশীল মন্তব্য ও কটাক্ষ করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সিজারের পর প্রসূতির অস্ত্রোপচারের ক্ষতস্থানে ইনফেকশন দেখা দিলে ড্রেন পাইপ বসাতে হয়। পরবর্তীতে ড্রেসিংয়ের জন্য হাসপাতালে গেলে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তালবাহানা ও অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ করেছে পরিবার।
জামালপুরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আজিজুল হক বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে। দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. রাবেয়া বসরী এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি জানিয়েছেন, তদন্ত কমিটির কাছে তিনি প্রয়োজনীয় তথ্য ও লিখিত জবাব উপস্থাপন করবেন।
চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা বা ভুল সিদ্ধান্ত ছিল কি না, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।











লেখাটি আপনার কেমন লাগলো?
মন্তব্য করতে সাইন-আপ বা লগইনের প্রয়োজন নেই - সরাসরি আপনার মতামত লিখুন।