জগন্নাথপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মেরামত বরাদ্দের টাকা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ
- আপলোডের সময় : Thursday, September 3, 2026,

জগন্নাথপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মেরামত বরাদ্দের টাকা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র মেরামতকাজের জন্য বরাদ্দ করা অর্থ বিতরণে অনিয়ম ও গড়িমসির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহবুবুল আলমের বিরুদ্ধে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে উপজেলার ৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র মেরামতের জন্য প্রতিটি বিদ্যালয়ে দেড় লাখ টাকা করে মোট ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে বরাদ্দের দুই মাস পেরিয়ে গেলেও অর্থ বিদ্যালয়গুলোর পরিচালনা কমিটির হিসাবে হস্তান্তর করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত জুন মাসে এসব বিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র মেরামতের জন্য বরাদ্দ অনুমোদন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে অর্থ ছাড় না হওয়ায় কয়েকটি বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের জানালা, স্যানিটেশন ব্যবস্থা ও ছাদের বিভিন্ন সমস্যা সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না।
কুবাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চলতি দায়িত্বে থাকা প্রধান শিক্ষক নিপেশ দাস বলেন, নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ভাউচার জমা দেওয়ার পরও তারা একাধিকবার উপজেলা শিক্ষা অফিসে গিয়ে অর্থ পাননি।
মীরপুর মহল্লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল অদুদ অভিযোগ করেন, বরাদ্দের টাকা থেকে ‘পার্সেন্টেজ’ কেটে রাখার আশঙ্কা রয়েছে। তার দাবি, দেড় লাখ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে এক লাখ টাকা দেওয়া হতে পারে।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের কেউ কেউ অর্থ বিতরণে বিলম্বের পেছনে অনিয়মের আশঙ্কা প্রকাশ করে বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তবে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো তদন্তে তা প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য যুক্তরাজ্যে অবস্থান করায় এবং তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী অর্থ বিতরণ করা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি এমপির প্রতিনিধির মাধ্যমে সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। দ্রুতই অর্থ বিতরণ সম্পন্ন হবে বলে জানান তিনি।
তবে বরাদ্দের অর্থ আটকে রাখার সরকারি কোনো নিয়ম নেই বলে জানিয়েছেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহন লাল দাস। তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।










