জগন্নাথপুরে আজ শ্রীরামসি আঞ্চলিক গণহত্যা দিবস
- আপলোডের সময় : Monday, August 31, 2026,

জগন্নাথপুরে আজ শ্রীরামসি আঞ্চলিক গণহত্যা দিবস
শাহ্ ফুজায়েল আহমদ
নির্বাহী সম্পাদক:
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের শ্রীরামসি গ্রামে ১৯৭১ সালের ৩১ আগস্ট সংঘটিত পাকবাহিনীর নৃশংস গণহত্যার স্মরণে আজ সোমবার পালিত হচ্ছে শ্রীরামসি আঞ্চলিক গণহত্যা দিবস। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকহানাদার বাহিনীর হাতে নিহত ১২৬ শহীদের স্মরণে প্রতি বছর যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এবারও শ্রীরামসি ‘শহীদ স্মৃতি সংসদ’-এর উদ্যোগে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, মিলাদ মাহফিল, আলোচনা সভা এবং মেধা নির্বাচনী প্রতিযোগিতার সনদ ও পুরস্কার বিতরণ।
শ্রীরামসি গ্রামের কৃতী সন্তান, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক, কবি ও সংগঠক এবং ইতালি প্রবাসী লুৎফুর রহমান তারেক জানান, ১৯৭১ সালের এই দিনে সংঘটিত বর্বরোচিত গণহত্যায় শহীদদের স্মৃতি নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে প্রতিবছরের মতো এবারও দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭১ সালের ৩১ আগস্ট সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে পাকহানাদার বাহিনীর সদস্যরা ৭ থেকে ৮টি নৌকাযোগে শ্রীরামসি বাজারে এসে পৌঁছায়। পরে স্থানীয় রাজাকারদের সহযোগিতায় গ্রামবাসীর মধ্যে প্রচার চালানো হয় যে, শ্রীরামসি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে শান্তি রক্ষা কমিটির একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে এবং এতে সবাইকে উপস্থিত থাকতে হবে।
শান্তি ও নিরাপত্তার আশায় সরল বিশ্বাসে গ্রামের অসংখ্য মানুষ সেদিন বিদ্যালয় মাঠে সমবেত হন। যারা উপস্থিত হতে দেরি করেছিলেন, তাদেরও ডেকে আনা হয়। একপর্যায়ে পাকসেনারা উপস্থিত লোকজনকে ১০ থেকে ১২ জন করে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কক্ষে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁদের হাত-পা বেঁধে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে নির্বিচারে গুলি চালানো হয়।
পাকহানাদার বাহিনীর সেই নৃশংস হত্যাযজ্ঞে সেদিন শ্রীরামসি গ্রামে ১২৬ জন নিরীহ মানুষ প্রাণ হারান বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে শ্রীরামসির এই গণহত্যা আজও এলাকাবাসীর কাছে এক বেদনাবিধুর ও শোকাবহ স্মৃতি হয়ে রয়েছে।
পরবর্তীতে ১৯৭১ সালের সেই বিভীষিকাময় দিনের শহীদদের স্মরণে ৩১ আগস্টকে শ্রীরামসি আঞ্চলিক গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন করা শুরু হয়। প্রতিবছর এ দিনে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি তাঁদের আত্মত্যাগ ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানানো হয়।











লেখাটি আপনার কেমন লাগলো?
মন্তব্য করতে সাইন-আপ বা লগইনের প্রয়োজন নেই - সরাসরি আপনার মতামত লিখুন।