চৌদ্দগ্রাম সাব রেজিস্ট্রি অফিসে নকলনবীশ সংকট, ৮ বছরেও মিলছে না মূল দলিল
- আপলোডের সময় : Thursday, September 10, 2026,

চৌদ্দগ্রাম সাব রেজিস্ট্রি অফিসে নকলনবীশ সংকট, ৮ বছরেও মিলছে না মূল দলিল
নিজস্ব প্রতিবেদক, আমার সকাল ২৪
কুমিল্লা
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম সাব রেজিস্ট্রি অফিসে নকলনবীশ (মুহুরী) সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। জনবল সংকটের কারণে দলিল রেজিস্ট্রির ৭-৮ বছর পরও অনেক সেবাগ্রহীতা মূল দলিল হাতে পাচ্ছেন না। এতে জমি ক্রয়-বিক্রয়সহ ব্যাংকঋণ সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা।
চৌদ্দগ্রাম সাব রেজিস্ট্রি অফিস সূত্রে জানা যায়, অফিসটিতে অন্তত ৪০-৫০ জন নকলনবীশ থাকার কথা থাকলেও কাগজে-কলমে রয়েছেন ১৮ জন। এর মধ্যে চারজনের পদোন্নতি হওয়ায় বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১৪ জন।
নকলনবীশ সংকটের কারণে বর্তমানে অফিসটিতে ২০১৭ সালের ৫ হাজার নম্বর পর্যন্ত বালাম তল্লাশ বা প্রতিবেদন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ফলে ২০১৭ সালের ৫ হাজার নম্বরের পর থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত রেজিস্ট্রি করা দলিলের মূলকপি সংগ্রহ করতে পারছেন না সেবাগ্রহীতারা।
এ ছাড়া ২০১৭ সালের পরবর্তী সময়ের দলিলের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না পাওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা ব্যাংকঋণের ক্ষেত্রে নির্দায়িত্ব সনদ (এনওসি) সংগ্রহেও সমস্যায় পড়ছেন। এতে ঋণ পেতে তাদের নানা ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
একই উপজেলার গুণবতী সাব রেজিস্ট্রি অফিস সূত্রে জানা যায়, সেখানে ১০-১২ জন নকলনবীশ থাকার কথা থাকলেও কর্মরত রয়েছেন মাত্র পাঁচজন। ওই অফিসে বর্তমানে ২০১৯ সালের ১ হাজার ৫০০ নম্বর পর্যন্ত বালাম তল্লাশ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
চৌদ্দগ্রামের সেবাগ্রহীতা আব্দুল হক জানান, ২০১৮ সালের শুরুতে চৌদ্দগ্রাম সাব রেজিস্ট্রি অফিসে একটি সাফকবলা দলিল রেজিস্ট্রি করেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো মূল দলিল পাননি।
আরেক সেবাগ্রহীতা রফিউদ্দিন জানান, ২০১৭ সালের শেষ দিকে তিনি দলিল রেজিস্ট্রি করেছিলেন। এত বছর ধরে দলিলের রসিদ সংরক্ষণে রাখতে পারেননি। এখন রসিদ ছাড়া মূল দলিল পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।
চৌদ্দগ্রাম সাব রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, অফিসটির অনেক নকলনবীশ বালাম লেখার কাজে আগ্রহী নন। নগদ অর্থের প্রত্যাশায় তারা দলিলের নকল লেখার কাজে বেশি ব্যস্ত থাকেন। ফলে যেখানে ১-২ বছরের মধ্যে মূল দলিল পাওয়ার কথা, সেখানে সাধারণ মানুষকে ৮-৯ বছর অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে সেবাগ্রহীতাদের নানা প্রশ্ন ও চাপের মুখে পড়তে হয় দলিল লেখকদের।
চৌদ্দগ্রাম সাব রেজিস্ট্রি অফিস দলিল লেখক সমিতির সভাপতি শাহনেওয়াজ শাহিন বলেন, ২০১৬ সাল থেকে চৌদ্দগ্রাম সাব রেজিস্ট্রি অফিসে নতুন নকলনবীশ নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। নতুন নকলনবীশ নিয়োগ দেওয়া হলে দীর্ঘদিনের এ জটিলতা দূর হবে বলে তিনি মনে করেন।
চৌদ্দগ্রাম সাব রেজিস্ট্রি অফিসের রেজিস্ট্রার মামুনুল ইসলাম বলেন, নকলনবীশ সংকট শুধু চৌদ্দগ্রামে নয়, সারা দেশেই রয়েছে। বিগত অনেক বছর ধরে নতুন নকলনবীশ নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। এ সংকটের বিষয়ে একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। নতুন নকলনবীশ নিয়োগ দেওয়া হলে এ সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।



















লেখাটি আপনার কেমন লাগলো?
মন্তব্য করতে সাইন-আপ বা লগইনের প্রয়োজন নেই - সরাসরি আপনার মতামত লিখুন।