চট্টগ্রামে ৬৩ বিদেশির প্রত্যেকের দুই দিনের রিমান্ড
- আপলোডের সময় : Tuesday, September 15, 2026,

চট্টগ্রামে ৬৩ বিদেশির প্রত্যেকের দুই দিনের রিমান্ড
নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রাম
বাংলাদেশে এসে কথিত অনলাইন প্রতারণার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৬৩ বিদেশি নাগরিকের প্রত্যেকের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মুহিদুল ইসলাম এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার তদন্তকারী সংস্থা কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটকে (সিটিইউ) ২০ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে পুলিশ আসামিদের রিমান্ড আবেদন করে।
রিমান্ডে ৬৩ বিদেশির বাংলাদেশে প্রবেশ, তাদের পাসপোর্ট একজন বাংলাদেশির কাছে থাকার কারণ, স্থানীয় সহযোগীদের ভূমিকা এবং কথিত অনলাইন প্রতারণার নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তথ্য বের করার চেষ্টা করবে তদন্ত সংস্থা। একই সঙ্গে কক্সবাজারে আটক একই ধরনের আরেকটি চক্রের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন মোহাম্মদ মহসিন নামে এক বাংলাদেশি। গত ১২ সেপ্টেম্বর নগরের খুলশী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, ৬৩ বিদেশি নাগরিকের পাসপোর্ট তার জিম্মায় ছিল। মহসিনের বাড়ি লক্ষ্মীপুরে। তিনি নগরের কর্ণফুলী এলাকার একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা।
খুলশী থানার ওসি আবদুর রহিম বলেন, মহসিনই ৬৩ বিদেশিকে আটতলা ভবনটি ভাড়া করে দিয়েছিলেন। তার সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তবে বিদেশিরা বৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন কি না এবং তারা কোন ধরনের ভিসায় এসেছেন, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি। মহসিনকে জিজ্ঞাসাবাদে এ বিষয়ে তথ্য পাওয়ার আশা করছে পুলিশ।
এর আগে ১০ সেপ্টেম্বর রাতে নগরের খুলশী থানার জালালাবাদ আবাসিক এলাকার একটি আটতলা ভবনে অভিযান চালিয়ে ৬৩ বিদেশিকে গ্রেপ্তার করে সিটিইউ ও খুলশী থানা-পুলিশ। তাদের মধ্যে লাওসের ৩৫, পাকিস্তানের ২১, চীনের পাঁচ, নেপালের একজন ও ভিয়েতনামের একজন নাগরিক রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২০ জন নারী। পুলিশ বাদী হয়ে খুলশী থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করেছে। পরদিন তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় দেড় মাস আগে বিদেশিরা ভবনটির ১৪টি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। সেখানে সার্ভার, কম্পিউটার, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তি সরঞ্জাম স্থাপন করা হয়েছিল। এসব ব্যবহার করে ওয়েবসাইট, মোবাইল ফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কথিত প্রতারণা চালানোর অভিযোগ তদন্ত করছে পুলিশ। চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বা বিভিন্ন কৌশলে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া এবং ব্যাংকসহ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের লেনদেনের তথ্য হ্যাক করে অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অভিযানে ভবনটি থেকে বিভিন্ন ধরনের ১৭০টি ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও নথি জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩৪টি মোবাইল ফোন, ৫৭টি ল্যাপটপ, একটি ট্যাব, একটি সিপিইউ, একটি মনিটর ও পাঁচটি পেনড্রাইভ রয়েছে। এ ছাড়া কম্বোডিয়ান এমপ্লয়মেন্ট কার্ড, তিনটি পাকিস্তানি জাতীয় পরিচয়পত্রসহ বিভিন্ন নথি উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, বিদেশিদের কথিত অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনায় দেশীয় একটি চক্র লজিস্টিক সহায়তা দিয়ে আসছিল। আটক বিদেশিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থানরত ওই চক্রের সদস্যদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
মহসিনকে ঘিরে তদন্তে আরও একটি বিষয় সামনে এসেছে। গত ৫ সেপ্টেম্বর মহানগরের একটি কুরিয়ার থেকে ১১৮ গ্রাম কোকেন উদ্ধারের ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পুলিশ বলছে, কয়েক দিন আগে তিনি কোকেন ঢাকায় এক ব্যক্তির কাছে পাঠিয়েছিলেন। পরে সেটি ফেরত আসে। কোকেনের বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে ৬৩ বিদেশির অবস্থানের তথ্য পাওয়া যায় বলে জানান খুলশী থানার ওসি।
কোকেনের মামলায় মহসিনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ৬৩ বিদেশির বিরুদ্ধে করা সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় তাকে শোন অ্যারেস্ট দেখানোর আবেদন করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে তাকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। তবে কোকেনের মামলার সঙ্গে বিদেশিদের বিরুদ্ধে করা কথিত অনলাইন প্রতারণার মামলার সরাসরি যোগসূত্রের কোনো তথ্য পুলিশ এখনো প্রকাশ করেনি।
এর আগে ৩ সেপ্টেম্বর রাতে কক্সবাজার শহরের একটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণার অভিযোগে ছয় বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে পাঁচজন চীনের ও একজন তাইওয়ানের নাগরিক। তাদের কাছ থেকে ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোন ও ৪০টি ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা হয় এবং আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের ঘটনায় সরাসরি যোগসূত্রের তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। তবে চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার ৬৩ বিদেশির সঙ্গে কক্সবাজারের ওই চক্রের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। একই সঙ্গে বিদেশিদের বাংলাদেশে প্রবেশের তথ্য, পাসপোর্ট নিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তির ভূমিকা, স্থানীয় সহযোগীদের পরিচয় এবং কথিত প্রতারণার অর্থের লেনদেনের পথ অনুসন্ধান করছে সিটিইউ।



















লেখাটি আপনার কেমন লাগলো?
মন্তব্য করতে সাইন-আপ বা লগইনের প্রয়োজন নেই - সরাসরি আপনার মতামত লিখুন।