ঘরে পচে যাচ্ছে পেঁয়াজ, বাজারে নেই ন্যায্য দাম—সালথায় চাষিদের নীরব কান্না
- আপলোডের সময় : Monday, August 24, 2026,

ঘরে পচে যাচ্ছে পেঁয়াজ, বাজারে নেই ন্যায্য দাম—সালথায় চাষিদের নীরব কান্না
মো. শাহীন হাওলাদার
ক্রাইম রিপোর্টার
ফরিদপুরের পেঁয়াজের রাজধানীখ্যাত সালথায় এবার পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকের মুখে হাসি নেই। মাঠজুড়ে ফলন ভালো হলেও বাজারে পেঁয়াজের দাম নেমে গেছে তলানিতে। এতে উৎপাদন খরচও তুলতে পারছেন না অনেক কৃষক।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মৌসুমে সার, শ্রমিক ও বীজের দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রতি মণ পেঁয়াজ উৎপাদনে খরচ পড়েছে প্রায় ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা। অথচ বাজারে অনেক ক্ষেত্রে সেই পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা মণ দরে।
শুধু কম দামই নয়, মাচায় পেঁয়াজ সংরক্ষণ করেও বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। চাষিদের দাবি, সংরক্ষণ করতে গিয়ে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পেঁয়াজ পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কোনো কোনো কৃষকের পুরো মাচার পেঁয়াজই নষ্ট হয়ে গেছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সালথার ৮টি ইউনিয়নে প্রায় ৫০ হাজার কৃষক রয়েছেন। চলতি মৌসুমে পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১১ হাজার ২৫০ হেক্টর। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে প্রায় ১১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদ হয়েছে। ফলে এবার উপজেলায় হয়েছে বাম্পার ফলন।
সালথা সদর, নকুলহাটি, ঠেনঠেনিয়া, মোন্তারমোড়, ফুলবাড়িয়া, মাঝারদিয়া, সোনাপুর ও বালিয়া বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পেঁয়াজের দাম নিয়ে কৃষকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ রয়েছে। ন্যায্য দাম না পেয়ে কোথাও কোথাও কৃষকের পেঁয়াজ পানিতে ফেলে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ বেশি এবং মোকামে চাহিদা কম থাকায় দাম কমেছে। সালথা সদর বাজারের ব্যবসায়ী মো. মাসুম সরদার জানান, বর্তমানে পেঁয়াজ ৭০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে ছোট বা চিকন পেঁয়াজের দাম ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত উঠছে। আগামী মাসের শুরুতে পেঁয়াজের দাম বাড়তে পারে বলেও জানান তিনি।
সালথা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আহসানুল হাবিব আল আজাদ জনি জানান, চলতি বছর কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ৮০০ কৃষকের মধ্যে বিনামূল্যে পেঁয়াজের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। পেঁয়াজের দাম নিয়ে কৃষকদের মধ্যে কিছুটা অসন্তোষ রয়েছে। কৃষক যাতে ন্যায্য মূল্য পান, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য সংরক্ষণাগার নির্মাণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।











লেখাটি আপনার কেমন লাগলো?
মন্তব্য করতে সাইন-আপ বা লগইনের প্রয়োজন নেই - সরাসরি আপনার মতামত লিখুন।