
কোরিয়ার বাজারে ৯৭% বাংলাদেশি পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা, বাড়বে রপ্তানি সম্ভাবনা
সংক্ষিপ্ত সংবাদ:
দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে বাংলাদেশের ৯৭ শতাংশ পণ্য ও সেবা অগ্রাধিকারমূলক শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পরও এ সুবিধা অব্যাহত থাকবে। তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাটজাত পণ্য, জুতা, ওষুধসহ বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি পণ্য এ সুবিধার আওতায় আসবে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সিইপিএ) স্বাক্ষর হয়। পরে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এক সংবাদ সম্মেলনে চুক্তির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চুক্তি কার্যকর হওয়ার প্রথম দিন থেকেই বাংলাদেশের ৮ হাজার ৪২৮টি পণ্য দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। বিপরীতে দক্ষিণ কোরিয়ার ১ হাজার ৫৪টি পণ্য বাংলাদেশের বাজারে একই সুবিধা ভোগ করবে।
চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ কোরিয়ার জন্য ৯৫টি সেবা উপখাত উন্মুক্ত করবে। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশের জন্য ১১১টি উপখাতে সেবা বাণিজ্যের সুযোগ দেবে। এর ফলে প্রযুক্তি স্থানান্তর, দক্ষ জনশক্তির অংশগ্রহণ ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, চামড়া, পাট, জুতা, ওষুধ ও হোম টেক্সটাইলসহ বিভিন্ন পণ্য দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করতে পারবে। তিনি জানান, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য অর্জনে সিইপিএ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী হান-কু বলেন, দুই দেশের ৫৬ বছরের অর্থনৈতিক সম্পর্ক এতদিন মূলত টেক্সটাইল খাতনির্ভর ছিল। এখন প্রযুক্তি, সরবরাহ ব্যবস্থা, শিল্প সহযোগিতা ও বিনিয়োগের মতো নতুন খাতে সম্পর্ক সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রায় ৪৯১ দশমিক ৭৩ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে এবং আমদানি করে প্রায় ৯০২ দশমিক ৯০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। সিইপিএ কার্যকর হলে দুই দেশের বাণিজ্য আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।