কুড়িগ্রামে গোডাউনের দরজা ভেঙে ১৯৭ বস্তা সার নিয়ে গেলেন কৃষক
- আপলোডের সময় : Monday, August 24, 2026,

কুড়িগ্রামে গোডাউনের দরজা ভেঙে ১৯৭ বস্তা সার নিয়ে গেলেন কৃষক
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে এক সার ডিলারের গোডাউনের দরজা ভেঙে প্রায় ১০ টন ইউরিয়া সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরে পুলিশের তৎপরতায় ৩৩ জন কৃষক ৩৩টি বস্তা সার ফেরত দিয়েছেন। বাকি সার উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
রোববার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের মেসার্স শাহ আমানত ডিলার পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিমুদ্দিন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাহ আমানত ট্রেডার্সের মালিক তাইফুর রহমান মুকুল ১ হাজার ৩২০ বস্তা ইউরিয়া সার বরাদ্দ পেয়েছিলেন। এর মধ্যে গোডাউনে মজুত ছিল ৩৪০ বস্তা। রোববার সার কিনতে দুই শতাধিক কৃষক ডিলার পয়েন্টে জড়ো হন। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও ডিলার পয়েন্ট না খোলায় কৃষকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।
একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ কৃষকেরা গোডাউনের দরজা ভেঙে ৫০ কেজি ওজনের ১৯৭ বস্তা, অর্থাৎ ৯ হাজার ৮৫০ কেজি সার নিয়ে যান।
ওসি আজিমুদ্দিন বলেন, ওই ইউনিয়নে সারের চাহিদা প্রায় ৪ হাজার বস্তা। বিপরীতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল ১ হাজার ৩২০ বস্তা। ডিলার কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহে গড়িমসি করছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে সার না পাওয়ার আশঙ্কা থেকে কৃষকেরা গোডাউন ভেঙে সার নিয়ে যান।
তিনি বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের তৎপরতায় ৩৩ জন কৃষক ৩৩টি বস্তা সার ফেরত দিয়েছেন। বাকি সার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার বলেন, আগস্ট মাসে উপজেলায় ইউরিয়া সারের চাহিদা ছিল ৬৮০ টন। চাহিদা অনুযায়ী সার পাওয়া গেছে এবং বিতরণও চলছে। উপজেলায় ইউরিয়া সারের কোনো সংকট নেই। কৃষকদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ও আতঙ্ক থেকেই এমন ঘটনা ঘটতে পারে।
শাহ আমানত ট্রেডার্সের মালিক তাইফুর রহমান মুকুলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেবনাথ বলেন, কিছু উচ্ছৃঙ্খল মানুষ আতঙ্ক ছড়িয়ে গোডাউনের দরজা ভেঙে সার নিয়ে গেছে। সরেজমিন পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









