কারমাইকেল কলেজে ফি আদায়ে ‘নগদ’ পদ্ধতি, অধ্যক্ষ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ

প্রতিনিধির নাম:
  • আপলোডের সময় : Tuesday, September 1, 2026,
কারমাইকেল কলেজে ফি আদায়ে ‘নগদ’ পদ্ধতি, অধ্যক্ষ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

Ad served by Google দ্বারা বিজ্ঞাপন

আপনার পঠন অভ্যাস এবং সাইটের কনটেন্টের উপর ভিত্তি করে এই বিজ্ঞাপনটি দেখানো হচ্ছে। এটি আমাদের সাইট পরিচালনায় সহায়তা করে।
ধন্যবাদ! আমরা এই বিজ্ঞাপনটি আপনাকে আর দেখাবো না।
কারমাইকেল কলেজে ফি আদায়ে ‘নগদ’ পদ্ধতি, অধ্যক্ষ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ

কারমাইকেল কলেজে ফি আদায়ে ‘নগদ’ পদ্ধতি, অধ্যক্ষ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ

রংপুর প্রতিনিধি

রংপুরের সরকারি কারমাইকেল কলেজে ৩০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বিভিন্ন ফি আদায়ে অনলাইন লেনদেনের পরিবর্তে নগদ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে কলেজের অধ্যক্ষসহ একটি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা অনিয়মের মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

দৈনিক আমাদের বার্তার অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব অভিযোগের তথ্য পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

Ad served by Google দ্বারা বিজ্ঞাপন

আপনার পঠন অভ্যাস এবং সাইটের কনটেন্টের উপর ভিত্তি করে এই বিজ্ঞাপনটি দেখানো হচ্ছে। এটি আমাদের সাইট পরিচালনায় সহায়তা করে।
ধন্যবাদ! আমরা এই বিজ্ঞাপনটি আপনাকে আর দেখাবো না।

অভিযোগ রয়েছে, গত ৩১ ডিসেম্বর নতুন অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর চলতি বছরের মার্চে মৌখিক নির্দেশে ডিজিটাল লেনদেন ও অনলাইনে ফি আদায়ের ব্যবস্থা স্থগিত করা হয়। এরপর বিভিন্ন খাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে হাতে নগদ টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী জানান, কলেজের মোট ২৪টি ব্যাংক হিসাব থাকলেও অধিকাংশ ফি নগদে আদায় করা হচ্ছে। শুধু প্রত্যয়নপত্র ও প্রশংসাপত্র বাবদ বছরে প্রায় ৩০ লাখ টাকা নগদে আদায় করা হয় বলে তাঁদের দাবি। এসব খাতে টাকা নেওয়ার পর অনেক ক্ষেত্রে কোনো রসিদ দেওয়া হয় না বলেও অভিযোগ করেন তারা।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

Ad served by Google দ্বারা বিজ্ঞাপন

আপনার পঠন অভ্যাস এবং সাইটের কনটেন্টের উপর ভিত্তি করে এই বিজ্ঞাপনটি দেখানো হচ্ছে। এটি আমাদের সাইট পরিচালনায় সহায়তা করে।
ধন্যবাদ! আমরা এই বিজ্ঞাপনটি আপনাকে আর দেখাবো না।

কলেজে যেসব খাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়, তার মধ্যে রয়েছে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির ভর্তি, টিসি, পাঠ বিরতি ও ফরম পূরণ ফি। এছাড়া অনার্সের বিভিন্ন বর্ষের নিয়মিত ও গ্রেড উন্নয়ন পরীক্ষা, সেমিনার, ফরম পূরণ, সেশন চার্জ ও ল্যাব ফি নেওয়া হয়।

ডিগ্রি পাস কোর্সের বিভিন্ন বর্ষের নিয়মিত, অনিয়মিত ও প্রাইভেট পরীক্ষা, সার্টিফিকেট কোর্স, স্পেশাল কোর্স ও কন্ডিশনাল প্রমোটেড পরীক্ষার ফিও নেওয়া হয়। পাশাপাশি মাস্টার্সের নিয়মিত, অনিয়মিত ও গ্রেড/মানোন্নয়ন পরীক্ষার ফি আদায় করা হয়।

অভিযোগকারীদের দাবি, ৩০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর এই প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন ফি বাবদ বছরে বৈধ লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ২০ কোটি টাকা। এর একটি অংশ ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন হলেও আরও কয়েক কোটি টাকা নগদে আদায় করা হয়। এসব নগদ লেনদেনের স্বচ্ছতা নিয়েই মূলত প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।

তবে কলেজের প্রধান সহকারী মেহেদী হাসান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমাদের কলেজের লেনদেন ব্যাংকের মাধ্যমে হয়। গত ৩০ বছর ধরে ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন হয়ে আসছে। আমি কোনো আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নই।”

এর আগে চলতি বছরের ২২ জুলাই কারমাইকেল কলেজে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেন শিক্ষার্থীরা। এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে অনিয়ম, শিক্ষার মানের অবনতি, আর্থিক অনিয়ম এবং দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সংকটের অভিযোগ তুলে তারা আন্দোলনের আলটিমেটাম দেন।

‘সচেতন শিক্ষার্থীদের’ ব্যানারে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থী মুহাফিজ মোস্তফা, মাহমুদুল হাসান ও হাফিজুল ইসলাম বক্তব্য দেন।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের বোর্ড পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ না থাকার নিয়ম থাকলেও অর্থের বিনিময়ে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত ফি’র বাইরেও অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।

তাদের অভিযোগ, তিনটির বেশি বিষয়ে অকৃতকার্য কয়েকজন শিক্ষার্থীও অর্থের বিনিময়ে ফরম পূরণের সুযোগ পেয়েছেন। এ কাজে কলেজের একজন কম্পিউটার অপারেটর জড়িত ছিলেন এবং প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে প্রায় ১০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তারা। এ–সংক্রান্ত স্ক্রিনশট ও শিক্ষার্থীদের বক্তব্য তাদের কাছে রয়েছে বলেও জানান তারা।

তবে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর দাবি, অধ্যক্ষ ও উচ্চমাধ্যমিক কমিটির আহ্বায়কের অনুমতি ছাড়া তিনি কোনো কাজ করেননি।

শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন, গ্রন্থাগার ফি ও কলেজ ম্যাগাজিন বাবদ প্রতিবছর অর্থ নেওয়া হলেও সে অনুযায়ী সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। দরিদ্র তহবিলের অর্থও শিক্ষার্থীরা পাচ্ছেন না বলে দাবি করেন তারা।

এ বিষয়ে কারমাইকেল কলেজের অধ্যক্ষ আবুল হোসেন মন্ডল বলেন, “সব ধরনের লেনদেন জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে হয়। এখানে নগদ ক্যাশ গ্রহণের সুযোগ নেই। কারমাইকেল কলেজে কোনো আর্থিক অনিয়ম নেই।”

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ সঠিক নয় দাবি করে অধ্যক্ষ আরও বলেন, “শিক্ষার্থীরা না জেনে এসব অভিযোগ করেছে। তারা বিষয়গুলো ভালোভাবে জানে না।”

ফিরে দেখা

কারমাইকেল কলেজে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। ২০১৮ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি দৈনিক শিক্ষাডটকমে ‘কারমাইকেল কলেজ অধ্যক্ষের দুর্নীতির তদন্ত করবে অধিদপ্তর’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে তৎকালীন অধ্যক্ষ আবদুল লতিফ মিঞার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থ লোপাট ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তদন্তের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।

প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, কলেজের শিক্ষকরা তৎকালীন সময়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের স্থানীয় কার্যালয়ে ২০টি অভিযোগ দাখিল করেছিলেন। অভিযোগগুলোর মধ্যে রংপুরের মাস্টারপাড়ায় প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭ হাজার ২০০ ও ৪ হাজার ৮০০ বর্গফুটের দুটি বাড়ি নির্মাণের অর্থের উৎস, কারমাইকেল কলেজ ও অধ্যক্ষের সাবেক কর্মস্থল রোকেয়া কলেজে নিরীক্ষার নামে ২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, দুই সন্তানকে বেসরকারি মেডিকেল কলেজে পড়ানোর অর্থের উৎস এবং কর্মচারী না থাকা সত্ত্বেও মাসে ৭ হাজার টাকা করে নেওয়ার অভিযোগও ছিল।

তবে ওই অভিযোগগুলোর বিষয়ে পরবর্তী সময়ে কী ধরনের তদন্ত বা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, তা বর্তমান প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা যায়নি।

কারমাইকেল কলেজের বর্তমান আর্থিক লেনদেন নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আমার সকাল ২৪  ই – পেপার

এ সংক্রান্ত