কাগজে পর্যাপ্ত, মাঠে মিলছে না সার: কুড়িগ্রামে কৃষকদের ভোগান্তি
- আপলোডের সময় : Thursday, September 3, 2026,

কাগজে পর্যাপ্ত, মাঠে মিলছে না সার: কুড়িগ্রামে কৃষকদের ভোগান্তি
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
কাগজে-কলমে কুড়িগ্রামে সারের কোনো সংকট নেই। সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী সার উত্তোলনও সম্পন্ন হয়েছে। এমনকি চলতি সেপ্টেম্বর মাসের ইউরিয়া ও নন-ইউরিয়া সারের বরাদ্দও পাওয়া গেছে। এরই মধ্যে নতুন বরাদ্দের সার উত্তোলন শুরু হয়েছে। তবে মাঠের চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। প্রয়োজনের সময় চাহিদা অনুযায়ী সার না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন কৃষকেরা।
কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি বরাদ্দ ও উত্তোলনের হিসাব ঠিক থাকলেও সেই সার নিয়মিতভাবে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও সার মিললেও চাহিদার তুলনায় তা অপ্রতুল। আবার অনেক কৃষককে দিনের পর দিন বিভিন্ন বিক্রয়কেন্দ্রে ঘুরতে হচ্ছে। সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের কারণে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের।
কৃষকদের দাবি, শুধু বরাদ্দ ও উত্তোলনের হিসাব দেখলেই হবে না। বরাদ্দের সার শেষ পর্যন্ত কোথায় যাচ্ছে এবং কতটুকু প্রকৃত কৃষকের কাছে পৌঁছাচ্ছে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। ডিলারদের গুদাম ও বিক্রয়কেন্দ্রে নিয়মিত তদারকি, মজুতের হিসাব যাচাই এবং নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, ডিলার পর্যায়ে সার সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থায় কঠোর নজরদারি না থাকায় অনেক সময় প্রকৃত কৃষকের কাছে চাহিদা অনুযায়ী সার পৌঁছায় না। ফলে সরকারি হিসাবে পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সার পেতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
কৃষক সেকেন্দার আলী বলেন, ‘কাগজে-কলমে সার থাকলেই হবে না, প্রয়োজনের সময়ে সেই সার কৃষকের হাতে পৌঁছাতে হবে। বরাদ্দ, উত্তোলন ও বিতরণের পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে সংকট দ্রুত কেটে যাবে।’
ডিলারদের দাবি, সংকট সাময়িক
সারের সংকট নিয়ে কৃষকদের অভিযোগের বিষয়ে ডিলারদের বক্তব্য ভিন্ন। তাদের দাবি, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছে। নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
রাজারহাট উপজেলার বিসিআইসি ডিলার মেসার্স সুরমা ট্রেডার্সের ম্যানেজার সাগর কুমার বলেন, আগে কৃষকেরা খুচরা দোকানদারের কাছ থেকে সার কিনতেন এবং ডিলাররা খুচরা সার বিক্রেতাদের কাছে সার সরবরাহ করতে পারতেন। বর্তমানে সেই নীতিমালা না থাকায় কৃষকেরা সরাসরি ডিলারদের কাছ থেকেই সার কিনছেন।
তিনি দাবি করেন, ‘সারের কোনো সংকট নেই।’
আগস্টে বরাদ্দের সার উত্তোলন
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত আগস্ট মাসে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় ইউরিয়া সারের বরাদ্দ ছিল ৬০০ মেট্রিক টন। এ ছাড়া টিএসপি ৭০ মেট্রিক টন, ডিএপি ৩০৭ মেট্রিক টন এবং এমওপি ১৯৫ মেট্রিক টন বরাদ্দ দেওয়া হয়। বরাদ্দ অনুযায়ী এসব সার উত্তোলনও সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি অফিস।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, সেপ্টেম্বর মাসের ইউরিয়া ও নন-ইউরিয়া সারের বরাদ্দও ইতোমধ্যে পাওয়া গেছে। এসব সার উত্তোলন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ফলে সরকারি হিসাব অনুযায়ী সারের ঘাটতি থাকার কথা নয়। তবে কৃষকদের অভিযোগ, প্রয়োজনের সময়ে মাঠপর্যায়ে পর্যাপ্ত সার পাওয়া যাচ্ছে না।
বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদে নির্দিষ্ট সময়ে সার প্রয়োগ গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো সার না পেলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কৃষকের উৎপাদন খরচও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা। এ কারণে দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত ও বিতরণ ব্যবস্থায় নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
রাজারহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তুষার কান্তি রায় বলেন, ‘চাহিদার বিপরীতে রাজারহাটে পর্যাপ্ত সার রয়েছে। সারের কোনো সংকট নেই। এরপরও কৃষকেরা কেন সার পাচ্ছেন না, আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।’
সরকারি হিসাবের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার এই পার্থক্যের কারণ খুঁজে বের করে দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করাই এখন কৃষকদের প্রধান দাবি।









