‘এমন সম্মান আগে পাইনি’: অস্ট্রেলিয়া সফর নিয়ে যা বললেন হাবিবুল বাশার
- আপলোডের সময় : Tuesday, August 25, 2026,

‘এমন সম্মান আগে পাইনি’: অস্ট্রেলিয়া সফর নিয়ে যা বললেন হাবিবুল বাশার
অস্ট্রেলিয়া সফরে বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্সে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন জাতীয় দলের নির্বাচক হাবিবুল বাশার। তাঁর মতে, কঠিন কন্ডিশনে ভালো ক্রিকেট খেলে বাংলাদেশ আত্মবিশ্বাস, অভিজ্ঞতা ও সম্মান—তিনটিই অর্জন করেছে। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার দর্শকদের কাছ থেকে পাওয়া প্রশংসাকে বাংলাদেশ ক্রিকেটের বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন তিনি।
সফরে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে হাবিবুল বাশার বলেন, ‘আমি সত্যিই খুব খুশি। এর আগে নির্বাচক হিসেবে কাজ করেছি, কিন্তু এবার দায়িত্বটা একটু বেশি ছিল। তাই এমন কঠিন সফরে দল ভালো করায় আনন্দটা অন্যরকম।’
তবে দলের সাফল্যের কৃতিত্ব খেলোয়াড়দেরই দিয়েছেন তিনি। ইনজুরির কারণে দল সাজানো কঠিন ছিল জানিয়ে বাশার বলেন, দল ঘোষণার জন্য শেষ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। ‘এ’ দল ও হাই পারফরম্যান্স দলের বিষয়ও ছিল। সব মিলিয়ে সময়টা বেশ চাপের ছিল। এরপরও যারা খেলেছে, তারা নিজেদের দায়িত্ব নিয়েছে। নাহিদ রানা না থাকলেও কেউ তাকে নিয়ে আফসোস করেনি। সবাই নিজেদের সেরাটা দিয়েছে। একটি ভালো দলের জন্য এই মানসিকতাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
ঘরোয়া ক্রিকেট থেকেই পেসারদের উত্থান
বাংলাদেশের ফাস্ট বোলিং ইউনিটের উন্নতির পেছনে ঘরোয়া ক্রিকেটের ভূমিকার কথা তুলে ধরেছেন হাবিবুল বাশার। তিনি জানান, ২০১৫ সাল থেকেই সবুজ ঘাসের উইকেট তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর ফল পেতে কয়েক বছর সময় লেগেছে।
নিজের খেলার সময়ের সঙ্গে বর্তমান সময়ের পার্থক্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি যখন খেলতাম, তখন দলে সাধারণত তিনজন স্পিনার ও একজন ফাস্ট বোলার থাকত। এখন তিনজন ফাস্ট বোলার ও একজন স্পিনার নিয়েও খেলছি। এই পরিবর্তনটা ধীরে ধীরে এসেছে এবং এখন আমরা তার ফল পাচ্ছি। এ প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা উচিত।’
বর্তমানে ফাস্ট বোলিং ও স্পিন—দুই বিভাগেই বাংলাদেশ ভালো অবস্থানে আছে বলে মনে করেন তিনি। ফলে কন্ডিশন অনুযায়ী দল সাজানোর সুযোগও বেড়েছে। তাঁর মতে, এখন বাংলাদেশের মূল চিন্তা কন্ডিশন নয়, বরং খেলোয়াড়দের সুস্থভাবে পাওয়া।
তানজিদে স্বস্তি
তানজিদ তামিমের পারফরম্যান্সেও সন্তুষ্ট হাবিবুল বাশার। তিনি বলেন, তানজিদ ভালো না করলে তার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতো। তবে নিজের চেয়ে তানজিদের জন্যই বেশি ভালো লেগেছে তাঁর।
বাশারের ভাষায়, ‘আমরা যখন তাকে দলে নিয়েছিলাম, তখন তার সামর্থ্য নিয়ে আমাদের কোনো সংশয় ছিল না। সে ভালো করেছে, তাই স্বাভাবিকভাবেই স্বস্তি পেয়েছি। তার টেকনিক ভালো, সে টেকনিক্যালি শক্তিশালী ব্যাটসম্যান।’
তানজিদের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং নিয়েও ইতিবাচক তিনি। তাঁর মতে, টেস্ট ক্রিকেটে ব্যাটিংয়ের ধরন নয়, মূল বিষয় রান করা। খারাপ বলকে কাজে লাগানোই গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ছোট লক্ষ্য
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ ধাপে ধাপে এগোতে চায় বলে জানিয়েছেন বাশার। সামনে আফগানিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচ রয়েছে। সব ম্যাচ জয়ের লক্ষ্য থাকলেও এখনই অনেক দূরের বড় লক্ষ্য নির্ধারণ করতে চান না তারা।
সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে দলের মধ্যে তৈরি হওয়া জয়ের বিশ্বাসকে দেখছেন তিনি। বাশার বলেন, ‘দলের মধ্যে এখন এই বিশ্বাস তৈরি হয়েছে যে, আমরা ম্যাচ জিততে পারি।’
২৩ বছর অপেক্ষা নয়
অস্ট্রেলিয়ায় আবার টেস্ট খেলতে বাংলাদেশকে ২৩ বছর অপেক্ষা করতে হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে বাশার বলেন, ‘বাংলাদেশকে আবার ২৩ বছর অপেক্ষা করতে হবে বলে মনে হয় না।’
তাঁর মতে, তিনি নিজে ভবিষ্যতে অস্ট্রেলিয়ায় আসবেন কি না, সেটি গুরুত্বপূর্ণ নয়। বরং বাংলাদেশ দল যেন নিয়মিত অস্ট্রেলিয়া সফর করে, সেটিই বড় বিষয়।
অস্ট্রেলিয়ান দর্শকদের প্রশংসা
অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশকে ঘিরে দর্শকদের আগ্রহেও মুগ্ধ হাবিবুল বাশার। ডারউইন ও ম্যাকওয়েতে শুধু বাংলাদেশিরাই নন, অনেক অস্ট্রেলিয়ানও মাঠে এসে খেলা দেখেছেন বলে জানান তিনি।
‘ডারউইন ও ম্যাকওয়েতে বাংলাদেশি কমিউনিটি খুব বড় নয়। তারপরও গ্যালারি প্রায় পূর্ণ ছিল। আমার মনে হয়েছে, দর্শকদের বড় অংশই অস্ট্রেলিয়ান। তারা ভালো ক্রিকেট দেখতে এসেছে। এটা আমাদের জন্য খুব ইতিবাচক বিষয়,’ বলেন তিনি।
সফর থেকে সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে সম্মানের কথাই বলেছেন বাশার। দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে টেস্ট খেললেও অস্ট্রেলিয়ায় এবার যেভাবে সাধারণ মানুষ বাংলাদেশ দলকে অভিনন্দন জানিয়েছে, সেটি তাঁর কাছে আলাদা অভিজ্ঞতা।
তিনি বলেন, ‘অনেক দর্শক এসে বলেছেন, আমরা ভালো ক্রিকেট দল। তারা আমাদের জয়কে ভাগ্যের ফল হিসেবে দেখেনি; বরং আমাদের ক্রিকেটের প্রশংসা করেছে। এটা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য বড় অর্জন।’
সিরিজ ভাগ করে নেওয়াই বড় সাফল্য
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সিরিজের ট্রফি ভাগ করে নেওয়াকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন হাবিবুল বাশার। প্রথম টেস্ট জয়ের পর সিরিজ জয়ের সুযোগ তৈরি হলেও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সেটি বাস্তবায়ন করা কঠিন ছিল বলে মনে করেন তিনি।
দ্বিতীয় টেস্টে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশকে কোনো সুযোগ দেয়নি উল্লেখ করে বাশার বলেন, সিমিং কন্ডিশনে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ আরও ভালো করতে পারলে ম্যাচটি ভিন্ন রূপ নিতে পারত।
তবে দ্বিতীয় টেস্টের হতাশার চেয়ে ডারউইনের জয়কেই বেশি মনে রাখতে চান তিনি। তাঁর মতে, এই সফর থেকে বাংলাদেশ পেয়েছে আত্মবিশ্বাস, অভিজ্ঞতা ও সম্মান—আর বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য সেটিই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।










