এনটিসির শেয়ার কারসাজিতে কারসাজিকারীরাই লোকসানে, ক্ষতি ৩৬ কোটি টাকার বেশি
প্রতিনিধির নাম:
আপলোডের সময় :
Sunday, August 23, 2026,
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Ad served by Google দ্বারা বিজ্ঞাপন
আপনার পঠন অভ্যাস এবং সাইটের কনটেন্টের উপর ভিত্তি করে এই বিজ্ঞাপনটি দেখানো হচ্ছে। এটি আমাদের সাইট পরিচালনায় সহায়তা করে।
ধন্যবাদ! আমরা এই বিজ্ঞাপনটি আপনাকে আর দেখাবো না।
এনটিসির শেয়ার কারসাজিতে কারসাজিকারীরাই লোকসানে, ক্ষতি ৩৬ কোটি টাকার বেশি
পুঁজিবাজারে শেয়ারের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে বিনিয়োগকারীদের ফাঁদে ফেলার ঘটনা নতুন নয়। তবে ন্যাশনাল টি কোম্পানির (এনটিসি) শেয়ারে ঘটেছে ভিন্ন চিত্র। দাম বাড়িয়ে মুনাফা করার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত কারসাজিতে জড়িত পক্ষগুলোরই রিয়েলাইজড ও আনরিয়েলাইজড লোকসান হয়েছে ৩৬ কোটি টাকার বেশি। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তদন্তে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাত্র ১৮ কার্যদিবসে এনটিসির শেয়ারের দাম ২৭০ টাকা ৭০ পয়সা থেকে বেড়ে ৪৮৬ টাকা ৯০ পয়সায় ওঠে। অর্থাৎ দর বেড়েছিল প্রায় ৮০ শতাংশ। তবে বেশিদিন সেই উচ্চ দর ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। ১৩ অক্টোবর থেকে দরপতন শুরু হয়ে পরবর্তী দেড় মাসে শেয়ারটির দাম প্রায় ৬১ শতাংশ কমে ১৮৯ টাকা ৯০ পয়সায় নেমে আসে। পরে আরও কমে সর্বশেষ গত মঙ্গলবার লেনদেন শেষে দর দাঁড়ায় ১৬৫ টাকা ২০ পয়সায়।
কৃত্রিম চাহিদা তৈরির অভিযোগ
তদন্তে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে এনটিসির শেয়ারে কৃত্রিম চাহিদা তৈরি করে। এ গোষ্ঠীর নেতৃত্বে ছিলেন মো. সরওয়ার কামাল। তার সঙ্গে ইরাম কামাল, নিলুফার কামাল, ম্যাকডোনাল্ড বাংলাদেশ (প্রাইভেট) লিমিটেড এবং ম্যাকড্রাই ডেসিক্যান্ট লিমিটেডের বিভিন্ন বিও হিসাবের লেনদেনেও যোগসাজশের তথ্য পাওয়া গেছে।
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Ad served by Google দ্বারা বিজ্ঞাপন
আপনার পঠন অভ্যাস এবং সাইটের কনটেন্টের উপর ভিত্তি করে এই বিজ্ঞাপনটি দেখানো হচ্ছে। এটি আমাদের সাইট পরিচালনায় সহায়তা করে।
ধন্যবাদ! আমরা এই বিজ্ঞাপনটি আপনাকে আর দেখাবো না।
২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত ওই গোষ্ঠী এনটিসির ৫ লাখ ১ হাজার ৯৫টি শেয়ার কেনে। এর মধ্যে সরওয়ার কামাল একাই কিনেছেন ৩ লাখ ৭ হাজার ৫০৫টি শেয়ার। ওই সময়ে মোট লেনদেন হওয়া শেয়ারের প্রায় ৪৭ শতাংশ ছিল তার কেনা।
তদন্ত অনুযায়ী, ওই সময়ে এনটিসির শেয়ারে মোট লেনদেনের প্রায় ৯০ শতাংশই নিয়ন্ত্রণ করেছিল সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী। এমনকি ৫ সেপ্টেম্বর মাত্র ১০ মিনিটে বাজারে লেনদেন হওয়া এনটিসির প্রায় ৯৮ শতাংশ শেয়ার কিনে নেওয়া হয়। ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বরও কয়েক মিনিটের ব্যবধানে সিংহভাগ শেয়ার কিনে কৃত্রিমভাবে চাহিদা ও দাম বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়।
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Ad served by Google দ্বারা বিজ্ঞাপন
আপনার পঠন অভ্যাস এবং সাইটের কনটেন্টের উপর ভিত্তি করে এই বিজ্ঞাপনটি দেখানো হচ্ছে। এটি আমাদের সাইট পরিচালনায় সহায়তা করে।
ধন্যবাদ! আমরা এই বিজ্ঞাপনটি আপনাকে আর দেখাবো না।
উদ্দেশ্য ছিল পুরোনো বিনিয়োগে মুনাফা
তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, সরওয়ার কামাল ও তার সহযোগীদের আগে থেকেই উচ্চ দামে কেনা বিপুলসংখ্যক এনটিসির শেয়ার ছিল। শেয়ারের দাম বাড়িয়ে এসব পুরোনো বিনিয়োগকে লাভজনক করাই তাদের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
কারসাজির মাধ্যমে দাম ৪৮৬ টাকা ৯০ পয়সায় ওঠার পরও তা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। বরং দ্রুত দরপতন শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে অভিযুক্তরা লোকসানে শেয়ার বিক্রি করতে শুরু করেন।
তদন্তে দেখা যায়, গড়ে ৪৬৫ টাকা দরে কেনা শেয়ার প্রায় ৪২ শতাংশ কম দামে বিক্রি করতে হয়েছে। এতে সরওয়ার কামাল ও তার সহযোগীদের রিয়েলাইজড লোকসান হয়েছে ৬ কোটি ২৮ লাখ টাকা। তাদের হাতে থাকা শেয়ারের আনরিয়েলাইজড লোকসানও ১০ কোটি টাকার বেশি।
ইকুইটি রিসোর্সেসেরও বড় লোকসান
এনটিসির শেয়ার কারসাজির তদন্তে ইকুইটি রিসোর্সেস লিমিটেডের নামও উঠে এসেছে। ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানটি এনটিসির মোট শেয়ারের প্রায় ৭০ শতাংশ কিনে নেয়। পরে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি মোহাম্মদ বিন কাশেম এনটিসির পরিচালক নির্বাচিত হন।
তদন্ত অনুযায়ী, ইকুইটি রিসোর্সেসের হাতে থাকা এনটিসির শেয়ারে আনরিয়েলাইজড লোকসানের পরিমাণ প্রায় ২০ কোটি ২৫ লাখ টাকা।
সরওয়ার কামাল ও তার সহযোগীদের রিয়েলাইজড-আনরিয়েলাইজড লোকসানের সঙ্গে ইকুইটি রিসোর্সেসের আনরিয়েলাইজড লোকসান যোগ করলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মোট ক্ষতির পরিমাণ ৩৬ কোটি টাকার বেশি।
লোকসান হলেও ছাড় নয়: বিএসইসি
পুঁজিবাজারে কারসাজির প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বিএসইসি। সংস্থাটির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. আবুল কালাম বলেন, কারসাজির প্রমাণ মিললে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ লোকসানে পড়লেও অপরাধ থেকে অব্যাহতি পাবেন না।
আর্থিক সংকটে ন্যাশনাল টি
এদিকে আর্থিকভাবেও সংকটে রয়েছে ন্যাশনাল টি কোম্পানি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কোম্পানিটির নিট লোকসান হয়েছে ১০৪ কোটি টাকার বেশি। শেয়ারপ্রতি লোকসান দাঁড়িয়েছে ১৫৮ টাকা ৫৩ পয়সায়। একই সময়ে নেট অ্যাসেট ভ্যালু (এনএভি) কমে ঋণাত্মক ১৪৪ টাকা ৯৭ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।
কোম্পানিটির পরিচালন কার্যক্রম থেকেও নগদ প্রবাহ ছিল ঋণাত্মক। ১৯৭৯ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর গত তিন বছর ধরে বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দিতে পারেনি এনটিসি। সর্বশেষ ২০২২ সালে ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল প্রতিষ্ঠানটি।
লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে বর্তমানে কোম্পানিটির শেয়ার ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে লেনদেন হচ্ছে। ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, এনটিসির মোট শেয়ার সংখ্যা ২ কোটি ৫৭ লাখ ৫০ হাজার। এর মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে ৩৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ, সরকারের হাতে ৫ দশমিক ২২ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ২৩ দশমিক ৮৬ শতাংশ শেয়ার।