এক স্বামীকে ঘিরে দুই নারীর প্রকাশ্যে মারামারি, চাঞ্চল্য
- আপলোডের সময় : Tuesday, September 15, 2026,

এক স্বামীকে ঘিরে দুই নারীর প্রকাশ্যে মারামারি, চাঞ্চল্য
স্টাফ রিপোর্টার
আমার সকাল ২৪
কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে এক ইউপি সদস্যকে স্বামী দাবি করে দুই নারীর মধ্যে প্রকাশ্যে চুল টানাটানি ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে লালমনিরহাটের তিস্তা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে এ ঘটনার ভিডিও ও দৃশ্য ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার কেন্দ্রে থাকা লিটন সরকার রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। তিনি পশ্চিম দেবোত্তর মৌজার চায়না বাজার এলাকার মৃত ফজল কমান্ডারের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লিটন সরকারকে নিজের স্বামী দাবি করাকে কেন্দ্র করে দুই নারীর মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত। নিজেকে দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করা নারীর ভাষ্য, লিটন প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়ে তাকে বিয়ে করেছেন। তার কাছে এ-সংক্রান্ত তালাকনামা রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে প্রথম স্ত্রী দাবি করেন, তাকে তালাক দেওয়া হয়নি এবং লিটন দ্বিতীয় বিয়েও করেননি।
সোমবার সকালে তিস্তা বাসস্ট্যান্ডে এ বিষয় নিয়ে দুই নারীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও মারামারিতে রূপ নেয়। প্রত্যক্ষদর্শী হামিদুল হক ও মিঠু মিয়া জানান, দুই নারী পরস্পরকে উদ্দেশ করে চেঁচামেচি করছিলেন এবং একপর্যায়ে চুল ধরে টানাটানি ও ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাদের শান্ত করেন।
খবর পেয়ে লালমনিরহাটের গোকুণ্ডা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রিপন ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই নারীকে নিজের জিম্মায় নেন। পরে তাদের চায়না বাজারে নিয়ে আসা হলে সেখানেও উৎসুক জনতার ভিড় জমে।
রিপন মেম্বার বলেন, তিস্তা বাসস্ট্যান্ডে দুই নারী মারামারি করছেন শুনে তিনি ঘটনাস্থলে যান। পরে দুজনকেই চায়না বাজারে নিয়ে আসেন। তারা দুজনই লিটনের স্ত্রী বলে দাবি করছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাদের নিজের জিম্মায় রাখা হয়।
স্থানীয় মিঠু মিয়া বলেন, বাসস্ট্যান্ডে দুই নারী চুল ধরে মারামারি শুরু করেন। পরে স্থানীয়রা তাদের ঝগড়া থামিয়ে সেখান থেকে নিয়ে আসেন।
নিজেকে লিটনের কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করা ওই নারী জানান, লিটনের সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর তিনি জানতে পারেন, লিটন ঢাকায় নেই। পরে লিটন প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন কি না, তা যাচাই করতে তিনি সেখানে আসেন বলে দাবি করেন। তার কাছে তালাকনামা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
তার দাবি, লিটন তাকে বলেছিলেন, তিনি তার প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন। বিষয়টি যাচাই করতেই তিনি সেখানে এসেছেন।
ওই নারী আরও জানান, এর আগে তার একটি সংসার ছিল এবং সেটি ত্যাগ করে লিটনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন। তিনি নিজেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ফাইনাল ও ইন্টার্নশিপরত শিক্ষার্থী হিসেবেও পরিচয় দেন।
অন্যদিকে লিটন সরকার বিয়ের বিষয়টি স্বীকার করলেও তিস্তা বাসস্ট্যান্ড ও চায়না বাজারে দুই নারীর মারামারির বিষয়ে জানতে চাইলে বিস্তারিত বক্তব্য না দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
ঘটনাটি নিয়ে চায়না বাজারসহ রাজারহাটে ব্যাপক আলোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের কেউ বিষয়টিকে পারিবারিক বিরোধ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এর আইনগত ও সামাজিক দিক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।



















লেখাটি আপনার কেমন লাগলো?
মন্তব্য করতে সাইন-আপ বা লগইনের প্রয়োজন নেই - সরাসরি আপনার মতামত লিখুন।