ঋণ পরিশোধেই যাবে কিউআইওর ৬৬% অর্থ, রয়্যাল ফুটওয়্যারে বিনিয়োগে যত ঝুঁকি

প্রতিনিধির নাম:
  • আপলোডের সময় : Sunday, August 23, 2026,
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

Ad served by Google দ্বারা বিজ্ঞাপন

আপনার পঠন অভ্যাস এবং সাইটের কনটেন্টের উপর ভিত্তি করে এই বিজ্ঞাপনটি দেখানো হচ্ছে। এটি আমাদের সাইট পরিচালনায় সহায়তা করে।
ধন্যবাদ! আমরা এই বিজ্ঞাপনটি আপনাকে আর দেখাবো না।

ঋণ পরিশোধেই যাবে কিউআইওর ৬৬% অর্থ, রয়্যাল ফুটওয়্যারে বিনিয়োগে যত ঝুঁকি

পুঁজিবাজারের এসএমই প্ল্যাটফর্মে তালিকাভুক্ত হতে যাচ্ছে জুতা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান রয়্যাল ফুটওয়্যার। কোয়ালিফায়েড ইনভেস্টর অফারের (কিউআইও) মাধ্যমে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ১২ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে কোম্পানিটি। তবে উত্তোলিত অর্থের ৮ কোটি টাকা বা ৬৬ দশমিক ৬৭ শতাংশই ব্যাংকঋণ পরিশোধে ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।

গত ১৪ জুলাই বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ১ হাজার ২০তম কমিশন সভায় কোম্পানিটির কিউআইও অনুমোদন দেওয়া হয়।

কোম্পানির প্রসপেক্টাস বিশ্লেষণে দেখা যায়, কিউআইওর অর্থ ব্যবহারের পরিকল্পনা নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন রয়েছে। গত ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রয়্যাল ফুটওয়্যারের হাতে ২০ কোটি ২৫ লাখ টাকা নগদ ও নগদ সমতুল্য সম্পদ ছিল। এরপরও বাজার থেকে তোলা অর্থের বড় অংশ দিয়ে ব্যাংকঋণ পরিশোধের পরিকল্পনা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

Ad served by Google দ্বারা বিজ্ঞাপন

আপনার পঠন অভ্যাস এবং সাইটের কনটেন্টের উপর ভিত্তি করে এই বিজ্ঞাপনটি দেখানো হচ্ছে। এটি আমাদের সাইট পরিচালনায় সহায়তা করে।
ধন্যবাদ! আমরা এই বিজ্ঞাপনটি আপনাকে আর দেখাবো না।

কিউআইওর বাকি ৪ কোটি টাকার মধ্যে ২ কোটি টাকা কাঁচামাল ও প্যাকেজিং, ১ কোটি ৬৭ লাখ টাকা খুচরা যন্ত্রাংশ এবং ৩৩ লাখ টাকা কিউআইও-সংক্রান্ত ব্যয়ে ব্যবহারের কথা রয়েছে।

মজুত ৪৩ কোটি টাকার, তবু কাঁচামাল কিনবে

রয়্যাল ফুটওয়্যারের আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো কাঁচামালের বড় মজুত। গত ৩১ ডিসেম্বর কোম্পানিটির মোট মজুত পণ্যের পরিমাণ ছিল ৫০ কোটি ৯২ লাখ টাকা। এর মধ্যে কাঁচামালই ছিল ৪৩ কোটি ২৭ লাখ টাকার।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

Ad served by Google দ্বারা বিজ্ঞাপন

আপনার পঠন অভ্যাস এবং সাইটের কনটেন্টের উপর ভিত্তি করে এই বিজ্ঞাপনটি দেখানো হচ্ছে। এটি আমাদের সাইট পরিচালনায় সহায়তা করে।
ধন্যবাদ! আমরা এই বিজ্ঞাপনটি আপনাকে আর দেখাবো না।

এ অবস্থায় কিউআইওর অর্থ থেকে আরও ২ কোটি টাকার কাঁচামাল কেনার পরিকল্পনা করেছে কোম্পানিটি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে কোম্পানিটির বিক্রি হয়েছে ৫২ কোটি ৯১ লাখ টাকা। অর্থাৎ ওই সময়ের বিক্রির প্রায় ৯৬ শতাংশের সমপরিমাণ পণ্য মজুত ছিল।

সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ

প্রসপেক্টাসে উল্লেখ করা হয়েছে, রয়্যাল ফুটওয়্যার তাদের পরিচালক মো. জাকির হোসেন পাটোয়ারী ও মো. বিল্লাল হোসেনের মালিকানাধীন আল-মদিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের বিদ্যুৎ বিল বাবদ ১ কোটি ৭১ লাখ ৩ হাজার ৩৬৬ টাকা পরিশোধ করেছে।

বাকেরগঞ্জে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উদযাপন বাকেরগঞ্জে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উদযাপন

একটি জুতা উৎপাদনকারী কোম্পানির অর্থ দিয়ে সংশ্লিষ্ট পরিচালকদের মালিকানাধীন ওষুধ কোম্পানির বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের বিষয়টি স্বার্থসংশ্লিষ্ট লেনদেন ও করপোরেট সুশাসন নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

৮০% আয় এক ক্রেতার ওপর নির্ভরশীল

রয়্যাল ফুটওয়্যারের ব্যবসায় বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখা যাচ্ছে একক ক্রেতার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা। প্রসপেক্টাস অনুযায়ী, কোম্পানিটির মোট আয়ের ৮০ দশমিক ২১ শতাংশ আসে হংকংভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘বলি/পয়েন্টার ইনভেস্টমেন্ট (এইচকে) লিমিটেড’ থেকে।

ফলে ওই ক্রেতার ক্রয়াদেশ কমে গেলে বা ব্যবসায়িক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হলে কোম্পানিটির রাজস্বে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

আয় কমলেও বেড়েছে এনএভি

কোম্পানিটির আয়ও কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত বছরে আয় ছিল ১১২ কোটি ৩১ লাখ টাকা। ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৯২ কোটি ২৩ লাখ টাকায়। অর্থাৎ এক বছরে আয় কমেছে প্রায় ২০ কোটি টাকা।

তবে জমি ও কারখানা ভবনের পুনর্মূল্যায়নের কারণে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পুনর্মূল্যায়ন না করলে এনএভি ১৫ টাকা ৭৮ পয়সা হলেও পুনর্মূল্যায়নের পর তা দাঁড়িয়েছে ২৭ টাকা ৫৪ পয়সায়। অর্থাৎ বেড়েছে ১১ টাকা ৭৬ পয়সা বা প্রায় ৭৪ দশমিক ৫ শতাংশ।

পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আবু আহমেদ মনে করেন, জুতা কোম্পানির অর্থ দিয়ে ওষুধ কোম্পানির বিল পরিশোধ সুশাসনের ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়। একই সঙ্গে কিউআইওর বড় অংশ ঋণ পরিশোধে ব্যয় হলে ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগও সীমিত হতে পারে। একক ক্রেতার ওপর ৮০ শতাংশের বেশি আয়ের নির্ভরতাকেও তিনি বিনিয়োগের জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখেছেন।

রয়্যাল ফুটওয়্যারের কোম্পানি সচিবের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। ইস্যু ব্যবস্থাপক প্রাইম ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট জানিয়েছে, এসব অসংগতির বিষয়ে মূল কোম্পানিই ব্যাখ্যা দিতে পারবে। বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম জানিয়েছেন, কমিশন বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আমার সকাল ২৪  ই – পেপার

এ সংক্রান্ত