ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে ‘ম্যানুফ্যাকচারিং হাব’ হতে চায় বাংলাদেশ

প্রতিনিধির নাম:
  • আপলোডের সময় : Sunday, August 23, 2026,
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

Ad served by Google দ্বারা বিজ্ঞাপন

আপনার পঠন অভ্যাস এবং সাইটের কনটেন্টের উপর ভিত্তি করে এই বিজ্ঞাপনটি দেখানো হচ্ছে। এটি আমাদের সাইট পরিচালনায় সহায়তা করে।
ধন্যবাদ! আমরা এই বিজ্ঞাপনটি আপনাকে আর দেখাবো না।

ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে ‘ম্যানুফ্যাকচারিং হাব’ হতে চায় বাংলাদেশ

বিদ্যমান অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে বাংলাদেশকে স্বাবলম্বী ও শক্তিশালী অর্থনীতিতে পরিণত করতে উৎপাদনমুখী বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক ‘ম্যানুফ্যাকচারিং হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

সম্প্রতি সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কার, জ্বালানি সংকট মোকাবিলা, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় তিন স্তরের পরিকল্পনা

ড. তিতুমীর বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের নীতির কারণে দেশের জ্বালানি কাঠামো অনেকটাই আমদানিনির্ভর হয়ে পড়েছে। পর্যাপ্ত আপৎকালীন মজুত না থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের দাম বাড়লে দেশের বাজারেও এর প্রভাব পড়ে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

Ad served by Google দ্বারা বিজ্ঞাপন

আপনার পঠন অভ্যাস এবং সাইটের কনটেন্টের উপর ভিত্তি করে এই বিজ্ঞাপনটি দেখানো হচ্ছে। এটি আমাদের সাইট পরিচালনায় সহায়তা করে।
ধন্যবাদ! আমরা এই বিজ্ঞাপনটি আপনাকে আর দেখাবো না।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার তিন স্তরের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। প্রথমত, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ঘাটতি কমিয়ে লোডশেডিং দ্রুত শূন্যের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া। দ্বিতীয়ত, গ্রীষ্মে বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নেওয়া। তৃতীয়ত, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্য সামনে রেখে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অন্তত তিন মাসের প্রয়োজনীয় জ্বালানি মজুত রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

Ad served by Google দ্বারা বিজ্ঞাপন

আপনার পঠন অভ্যাস এবং সাইটের কনটেন্টের উপর ভিত্তি করে এই বিজ্ঞাপনটি দেখানো হচ্ছে। এটি আমাদের সাইট পরিচালনায় সহায়তা করে।
ধন্যবাদ! আমরা এই বিজ্ঞাপনটি আপনাকে আর দেখাবো না।

মোংলায় বাড়ছে জ্বালানি অবকাঠামো

জ্বালানি অবকাঠামোকে চট্টগ্রাম ও মাতারবাড়ীকেন্দ্রিক না রেখে মোংলা অঞ্চলেও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। মোংলায় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল ও সিএনজি ল্যান্ডিং স্টেশন স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে।

দেশের অভ্যন্তরে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের কারিগরি ও অনুসন্ধান সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিনিয়োগ বাড়াতে পাঁচ দফা নীতি

উৎপাদন ও শিল্প খাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানান উপদেষ্টা। এগুলো হলো—

  1. করনীতির ধারাবাহিকতা ও নিশ্চয়তা
  2. বিনিয়োগকারীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা
  3. উৎপাদন খাতে আর্থিক ও নীতিগত সহায়তা
  4. আর্থিক ও মুদ্রানীতির সমন্বয়
  5. আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কমানো

করনীতির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে টানা পাঁচ বছরের জন্য করনীতি অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

এ ছাড়া বন্ধ কলকারখানা চালু এবং অগ্রাধিকার খাতের বিনিয়োগে স্বল্প সুদের বিশেষ প্যাকেজ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগের অনুমোদন ও লাইসেন্স প্রক্রিয়া সহজ করতে একটি বিশেষ কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

কর্মসংস্থানে চালু হচ্ছে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’

বেকারত্ব কমাতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ বা কর্মসংস্থান বিনিময় কেন্দ্র চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে দেশের বেকার জনগোষ্ঠীর ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি, চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগদাতার মধ্যে সমন্বয় এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের দক্ষ করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিদেশি বিনিয়োগে আগ্রহ বাড়ছে

ড. তিতুমীরের দাবি, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে। চীনা বিনিয়োগকারীরা বিভিন্ন শিল্প ও অর্থনৈতিক অঞ্চলে কাজ শুরু করেছেন। মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলও বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া, পশ্চিম ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীরাও বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছেন বলে জানান তিনি।

বিদেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি পণ্য পরিবহনের সুবিধা বাড়াতে রেল যোগাযোগে ডুয়েলগেজ অবকাঠামো সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

রাজস্ব বাড়াতে করের আওতা সম্প্রসারণ

রাজস্ব আদায় বাড়াতে করদাতাদের ওপর প্রশাসনিক চাপ না বাড়িয়ে করের আওতা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান উপদেষ্টা।

কর ফাঁকি, কর পরিহার এবং অবৈধ কর অব্যাহতি বা বিশেষ সুবিধা বন্ধের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তার দাবি, এর ফলে মধ্য ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে রাজস্ব আদায়ে ১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে, যেখানে আগের সময়ে প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ২ শতাংশ।

২০২৯ সালের মধ্যে সংস্কারের দৃশ্যমান ফল

সরকার ২০২৯ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের মধ্যে অর্থনৈতিক সংস্কারের দৃশ্যমান ফল নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এ জন্য পাঁচ বছরের একটি কৌশলগত কাঠামো তৈরি করা হয়েছে।

এই পরিকল্পনার তিনটি মূল স্তম্ভ হলো—পুনরুদ্ধার, উত্তরণ ও ত্বরান্বিতকরণ।

ড. তিতুমীর বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া বিভিন্ন অর্থনৈতিক সমস্যা বর্তমান সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি অর্থনীতিকে উৎপাদনমুখী করে একটি শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে নেওয়ার লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আমার সকাল ২৪  ই – পেপার

এ সংক্রান্ত