উজিরপুর ও বানারীপাড়ায় ৩০৭ স্কুলের ১৯৮টিতেই নেই স্থায়ী প্রধান শিক্ষক
- আপলোডের সময় : Tuesday, August 25, 2026,

উজিরপুর ও বানারীপাড়ায় ৩০৭ স্কুলের ১৯৮টিতেই নেই স্থায়ী প্রধান শিক্ষক
ভারপ্রাপ্ত ও চলতি দায়িত্বেই চলছে প্রশাসনিক কাজ, ব্যাহত পাঠদান
মো. নাজমুল হক নয়ন
স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল
বরিশালের উজিরপুর ও বানারীপাড়া উপজেলার অধিকাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। ফলে সহকারী শিক্ষকদের একদিকে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান, অন্যদিকে দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও পাঠদানে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উজিরপুর উপজেলার ১৮১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১১১টিতে এবং বানারীপাড়া উপজেলার ১২৬টির মধ্যে ৮৭টিতে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। দুই উপজেলায় মোট ৩০৭টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৯৮টিতে স্থায়ী প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।
উজিরপুরে ৪০টি বিদ্যালয়ে চলতি দায়িত্বে এবং ৭১টিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অন্যদিকে বানারীপাড়ায় ৩০টি বিদ্যালয়ে চলতি দায়িত্বে এবং ৫৭টিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দায়িত্ব পালন করছেন।
| উপজেলা | মোট বিদ্যালয় | স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই | চলতি দায়িত্বে | ভারপ্রাপ্ত |
|---|---|---|---|---|
| উজিরপুর | ১৮১ | ১১১ | ৪০ | ৭১ |
| বানারীপাড়া | ১২৬ | ৮৭ | ৩০ | ৫৭ |
| সর্বমোট | ৩০৭ | ১৯৮ | ৭০ | ১২৮ |
প্রধান শিক্ষক সংকটের কারণ
সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রক্রিয়া বন্ধ থাকায় প্রধান শিক্ষক সংকট তীব্র হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী ৮০ শতাংশ পদ পদোন্নতি এবং ২০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণের বিধান থাকলেও দীর্ঘ সময় ধরে এ প্রক্রিয়া কার্যকরভাবে এগোয়নি।
এ ছাড়া শহরাঞ্চলের বিদ্যালয়ে অবসরের কারণে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য হলে তুলনামূলক দ্রুত বদলি বা অন্যান্য প্রক্রিয়ায় পদ পূরণ করা হলেও প্রত্যন্ত এলাকার অনেক বিদ্যালয়ের শূন্য পদ দীর্ঘদিন ধরে পূরণ হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
শিক্ষক ও অভিভাবকদের ক্ষোভ
বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান শাহিন বলেন, ২০০৯ সাল থেকে সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে স্থায়ী পদোন্নতি বন্ধ রয়েছে। ২০১৭ সালে কয়েকজনকে চলতি দায়িত্ব দেওয়া হলেও পরবর্তীতে এ বিষয়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
উজিরপুরের অভিভাবক রফিকুল ইসলাম ও বানারীপাড়ার মো. হানিফ বলেন, বিদ্যালয়ে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক না থাকায় প্রশাসনিক তদারকিতে দুর্বলতা দেখা দিচ্ছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত দাপ্তরিক দায়িত্বের কারণে সহকারী শিক্ষকদের পাঠদানে মনোযোগ ব্যাহত হচ্ছে।
প্রশাসনের বক্তব্য
বানারীপাড়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা খগোপতি রায় এবং উজিরপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম জানান, আইনি জটিলতা ও নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ থাকায় এ সংকট তৈরি হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে।
উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী সুজা এবং বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বায়েজিদুর রহমান জানান, প্রাথমিক শিক্ষার মান ধরে রাখা এবং শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধে শূন্য পদে দ্রুত স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।











লেখাটি আপনার কেমন লাগলো?
মন্তব্য করতে সাইন-আপ বা লগইনের প্রয়োজন নেই - সরাসরি আপনার মতামত লিখুন।