ইরান যুদ্ধে জয় দাবি গালিবাফের, ট্রাম্প ‘ব্যর্থতার দায় চাপানোর’ চেষ্টা করছেন: বিশ্লেষক
- আপলোডের সময় : Monday, August 17, 2026,

ইরান যুদ্ধে জয় দাবি গালিবাফের, ট্রাম্প ‘ব্যর্থতার দায় চাপানোর’ চেষ্টা করছেন: বিশ্লেষক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতে ইরান সামরিক ও রাজনৈতিক—দুই দিক থেকেই জয় পেয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার ও শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
৬০ দিনের যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ শেষ হওয়ার দিনে গালিবাফ এ মন্তব্য করেন। তাঁর দাবি, সংঘাতের ফল ইরানের জন্য সামরিক ও রাজনৈতিক—উভয় দিক থেকেই সাফল্য বয়ে এনেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করতে না পারায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন ব্যর্থতার দায় অন্যদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছেন বলে মন্তব্য করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার পুসান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক রবার্ট কেলি।
আল জাজিরাকে কেলি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে পরিকল্পিত সামরিক মহড়া কমিয়ে আনার ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সঙ্গে ইরান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার সম্পর্ক থাকতে পারে।
কেলির মতে, ট্রাম্প শুরুতে ইরানের বিরুদ্ধে সংঘাত দ্রুত শেষ হবে বলে ধারণা করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি দীর্ঘ ও জটিল পাল্টাপাল্টি হামলায় রূপ নিয়েছে।
তিনি বলেন, ট্রাম্প এমন একটি স্বল্পমেয়াদি সংঘাতের প্রত্যাশা করেছিলেন, যা দ্রুত শেষ হবে। কিন্তু তা দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে পরিণত হওয়ায় পরিস্থিতি এখন তাঁর জন্য জটিল হয়ে উঠেছে।
কেলির দাবি, এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প সংঘাতের ফলাফলের জন্য দায়ী করার মতো পক্ষ খুঁজছেন। তাঁর মতে, এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররাও সমালোচনার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। অতীতেও ট্রাম্প ন্যাটোর মিত্রদের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ তুলেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষেত্রেও ট্রাম্পের সমালোচনার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কেলি। তাঁর মতে, দক্ষিণ কোরিয়া ইরান সংঘাতে সরাসরি অংশ নেয়নি এবং সংঘাতের বিষয়ে দেশটির সঙ্গে যথেষ্ট পরামর্শও করা হয়নি।
কেলির ধারণা, ইরান সংঘাত থেকে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক ও সামরিক চাপ আড়াল করতেই ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক মহড়া কমানোর মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি থেকে কীভাবে বের হয়ে আসা যায়, তা নিয়ে ট্রাম্প নিজেও অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে পারেন।










