ইরানের নজর এড়াতে ‘ডার্ক ট্রানজিট’, হরমুজে ট্র্যাকিং বন্ধ রেখে চলছে তেলবাহী ট্যাঙ্কার

প্রতিনিধির নাম:
  • আপলোডের সময় : Sunday, August 23, 2026,
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

Ad served by Google দ্বারা বিজ্ঞাপন

আপনার পঠন অভ্যাস এবং সাইটের কনটেন্টের উপর ভিত্তি করে এই বিজ্ঞাপনটি দেখানো হচ্ছে। এটি আমাদের সাইট পরিচালনায় সহায়তা করে।
ধন্যবাদ! আমরা এই বিজ্ঞাপনটি আপনাকে আর দেখাবো না।

ইরানের নজর এড়াতে ‘ডার্ক ট্রানজিট’, হরমুজে ট্র্যাকিং বন্ধ রেখে চলছে তেলবাহী ট্যাঙ্কার

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনে নতুন কৌশল নিয়েছে বিভিন্ন দেশের তেলবাহী ট্যাঙ্কার। নিরাপত্তার কারণে অনেক জাহাজ তাদের এআইএস ট্রান্সপন্ডার বন্ধ করে ‘ডার্ক ট্রানজিট’ পদ্ধতিতে রাতের আঁধারে প্রণালি পার হচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

গ্রিক মালিকানাধীন সুপার ট্যাঙ্কার কিকু গত ২৫ জুলাই কাতারের মেসাইদ তেল রপ্তানি টার্মিনালে নোঙর করে। চার দিন পর অপরিশোধিত তেল নিয়ে হরমুজ প্রণালির দিকে রওনা হয় জাহাজটি। তবে ৩১ জুলাই দুপুরে দুবাই উপকূলের কাছে পৌঁছানোর পর এর এআইএস সংকেত বন্ধ হয়ে যায়। পরদিন ১ আগস্ট সকালে হরমুজ প্রণালির অপর পাশে আবার কিকুর সংকেত শনাক্ত হয়।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সম্ভাব্য ড্রোন হামলা এড়াতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর নিরাপত্তার মধ্যে কিছু বাণিজ্যিক জাহাজ ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখে রাতে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করছে। তবে মাত্র প্রায় ২৩ মাইল প্রশস্ত এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে রাডার ও অন্যান্য নজরদারি ব্যবস্থা এড়িয়ে চলা সহজ নয়।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

Ad served by Google দ্বারা বিজ্ঞাপন

আপনার পঠন অভ্যাস এবং সাইটের কনটেন্টের উপর ভিত্তি করে এই বিজ্ঞাপনটি দেখানো হচ্ছে। এটি আমাদের সাইট পরিচালনায় সহায়তা করে।
ধন্যবাদ! আমরা এই বিজ্ঞাপনটি আপনাকে আর দেখাবো না।

সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। এর আগে কিকু ট্যাঙ্কারেও একটি ড্রোন আঘাত করেছিল। তবে সেটি বিস্ফোরিত না হওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।

কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী প্রায় ৮০ শতাংশ জাহাজ এখন ‘ডার্ক ট্রানজিট’ কৌশল ব্যবহার করে ওমানের উপকূল ঘেঁষে চলাচল করছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

Ad served by Google দ্বারা বিজ্ঞাপন

আপনার পঠন অভ্যাস এবং সাইটের কনটেন্টের উপর ভিত্তি করে এই বিজ্ঞাপনটি দেখানো হচ্ছে। এটি আমাদের সাইট পরিচালনায় সহায়তা করে।
ধন্যবাদ! আমরা এই বিজ্ঞাপনটি আপনাকে আর দেখাবো না।

মার্কিন নৌবাহিনীর সহায়তায় সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেল কোম্পানিগুলোও এই কৌশল ব্যবহার করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ট্যাঙ্কারগুলো পারস্য উপসাগর থেকে তেল নিয়ে ওমান সাগরে পৌঁছানোর পর অপেক্ষমাণ অন্য জাহাজে তেল স্থানান্তর করছে। এরপর আবার একই পথে ফিরে যাচ্ছে।

এতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা ঝুঁকি ও অতিরিক্ত বীমা ব্যয়ের চাপ বাড়ছে। এসব ব্যয়ের একটি অংশ মার্কিন সরকার ও তেল উৎপাদকদের ওপর পড়ছে। মার্কিন জ্বালানি বিভাগের হিসাবে, এই পদ্ধতির মাধ্যমে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৮০ থেকে ৯০ লাখ ব্যারেল তেল হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন হচ্ছে, যা কিছু ট্র্যাকিং ডেটায় পাওয়া পরিমাণের প্রায় দ্বিগুণ।

হুয়াওয়ের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে বহুল আলোচিত মামলার বিচার শুরু হুয়াওয়ের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে বহুল আলোচিত মামলার বিচার শুরু

ফুজাইরাহে গিয়ে তেল স্থানান্তর

কিকু ১ আগস্ট সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দরের কাছে আবার শনাক্ত হয়। সেখানে আরেক গ্রিক সুপার ট্যাঙ্কার নাভ ইলেকট্রন-এর পাশে নোঙর করে। পরে দুই জাহাজের মধ্যে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তেল স্থানান্তর করা হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ‘ডার্ক ট্যাঙ্কার’ কৌশল বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক রাখতে সাময়িকভাবে সহায়তা করছে। তবে হরমুজ ঘিরে রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে তেলের বাজারে অস্থিরতাও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণের দাবি ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে হরমুজ প্রণালির ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। সাউথ ক্যারোলাইনায় এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালিকে তিনি আমেরিকান ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচনা করেন এবং মার্কিন নৌ অবরোধ বহাল রয়েছে।

ট্রাম্পের দাবি, ইরান আলোচনায় বসতে আগ্রহী হলেও ওয়াশিংটনের চাহিদা অনুযায়ী ‘সঠিক চুক্তি’ করতে দেশটি এখনো প্রস্তুত নয়।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা ইরানের

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের মার্কিন সিদ্ধান্তেরও তীব্র সমালোচনা করেছে তেহরান।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই দাবি করেছেন, আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষা করে অন্য দেশের ওপর এভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা সার্বভৌম রাষ্ট্রগুলোর অধিকার লঙ্ঘনের শামিল। তার ভাষায়, এটি জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর স্বাতন্ত্র্য ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা এবং ‘নতুন উপনিবেশবাদ’-এর রূপ।

ইরাকি ট্যাঙ্কারকে হরমুজ পার হওয়ার অনুমতি

এদিকে ইরানের কাছে বিশেষ অনুরোধের পর নির্দিষ্ট কিছু ইরাকি তেলবাহী ট্যাঙ্কারকে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ।

সম্প্রতি বাগদাদ সফরের সময় ইরানি স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফের সঙ্গে আলোচনায় ইরাকি প্রশাসন তাদের তেল ট্যাঙ্কার চলাচলের জন্য বিশেষ ছাড়ের অনুরোধ জানিয়েছিল। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই নির্দিষ্ট ইরাকি ট্যাঙ্কারগুলোকে প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আমার সকাল ২৪  ই – পেপার

এ সংক্রান্ত