ইরানি হ্যাকারদের হামলায় ৪ দিন অচল ব্রিটেনের বিদ্যুৎকেন্দ্র
প্রতিনিধির নাম:
আপলোডের সময় :
Monday, August 24, 2026,
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Ad served by Google দ্বারা বিজ্ঞাপন
আপনার পঠন অভ্যাস এবং সাইটের কনটেন্টের উপর ভিত্তি করে এই বিজ্ঞাপনটি দেখানো হচ্ছে। এটি আমাদের সাইট পরিচালনায় সহায়তা করে।
ধন্যবাদ! আমরা এই বিজ্ঞাপনটি আপনাকে আর দেখাবো না।
ইরানি হ্যাকারদের হামলায় ৪ দিন অচল ব্রিটেনের বিদ্যুৎকেন্দ্র
ইরানি হ্যাকারদের হামলায় ৪ দিন অচল ব্রিটেনের বিদ্যুৎকেন্দ্র
ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হ্যাকারদের নজিরবিহীন সাইবার হামলায় যুক্তরাজ্যের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র চার দিন অচল ছিল বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ। ব্রিটেনে কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র অচল করতে ইরান-সংশ্লিষ্ট হ্যাকারদের সফল হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি অঙ্গরাজ্যের পানি অবকাঠামোয় ধারাবাহিক সাইবার হামলার সময়ের সঙ্গে ব্রিটিশ বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার সময়েরও মিল রয়েছে। ওই হামলাগুলো নিয়ে হোয়াইট হাউসে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।
নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ব্রিটিশ কর্মকর্তারা আক্রান্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নাম প্রকাশ করেননি। তবে হামলার পর কেন্দ্রটি চার দিন বন্ধ ছিল এবং কর্মীরা সেটি পুনরায় চালুর জন্য কাজ করেন। কেন্দ্রটি তুলনামূলক ছোট হওয়ায় এর কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ব্রিটেনের সামগ্রিক বিদ্যুৎ সরবরাহ বা জ্বালানি উৎপাদনে কোনো উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েনি।
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Ad served by Google দ্বারা বিজ্ঞাপন
আপনার পঠন অভ্যাস এবং সাইটের কনটেন্টের উপর ভিত্তি করে এই বিজ্ঞাপনটি দেখানো হচ্ছে। এটি আমাদের সাইট পরিচালনায় সহায়তা করে।
ধন্যবাদ! আমরা এই বিজ্ঞাপনটি আপনাকে আর দেখাবো না।
ঘটনার পর ব্রিটিশ সরকার বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোর প্রধান নির্বাহীদের বিষয়টি জানায়। একই সঙ্গে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে সাইবার নিরাপত্তা জোরদার, করণীয় ও পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়া হয়।
ঘটনাটি যুক্তরাজ্যের জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কেন্দ্রের কাছেও জানানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা জিসিএইচকিউয়ের অধীন এই সংস্থাটি বিদেশি সাইবার হুমকি থেকে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামো সুরক্ষায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে পরামর্শ দিয়ে থাকে।
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Ad served by Google দ্বারা বিজ্ঞাপন
আপনার পঠন অভ্যাস এবং সাইটের কনটেন্টের উপর ভিত্তি করে এই বিজ্ঞাপনটি দেখানো হচ্ছে। এটি আমাদের সাইট পরিচালনায় সহায়তা করে।
ধন্যবাদ! আমরা এই বিজ্ঞাপনটি আপনাকে আর দেখাবো না।
ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়া, চীন, ইরান ও উত্তর কোরিয়াসংশ্লিষ্ট হ্যাকারদের সাইবার হুমকি নিয়ে সতর্ক করে আসছে। এসব গোষ্ঠী গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামো ও সরকারি প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে হামলা চালাতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
এর আগে সাইবার হামলায় ব্রিটেনের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা, স্কুল ও বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। জাগুয়ার ল্যান্ড রোভারের উৎপাদন কার্যক্রমও সাইবার হামলার কারণে বন্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে এর আগে ব্রিটেনের কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র পুরোপুরি অচল করে দেওয়ার ঘটনা জানা যায়নি।
সংশ্লিষ্টদের ধারণা, হামলাটি সাধারণ মানুষের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে চালানো হয়নি। এমনকি সাধারণ মানুষের বড় একটি অংশ ঘটনাটি টেরও পাননি বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এর মাধ্যমে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হ্যাকাররা যুক্তরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তাব্যবস্থায় প্রবেশ করে সংবেদনশীল একটি স্থাপনা বন্ধ করার সক্ষমতা প্রদর্শন করতে চেয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ব্রিটেনে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত ছোট আকারের কয়েক ডজন বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। এর অনেকগুলো গ্যাসচালিত এবং সপ্তাহে মাত্র কয়েক ঘণ্টা চালু করা হয়। বাতাসের গতি কমে গেলে অতিরিক্ত বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে এসব কেন্দ্র ব্যবহার করা হয়। ফলে এ ধরনের কোনো কেন্দ্র চার দিন বন্ধ থাকলেও জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার কথা নয়।
ব্রিটিশ বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার সময়ের কাছাকাছি যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি বর্জ্যপানি শোধনাগারেও সাইবার হামলার ঘটনা ঘটে। এসব হামলায় কোথাও বন্যা দেখা দেয়, আবার কোথাও পানির চাপ কমে যায়। কিছু এলাকায় বাসিন্দাদের পানি পান করার আগে ফুটিয়ে নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়।
গত ২৬ জুলাই মিনেসোটায় প্রথম এ ধরনের হামলার খবর পাওয়া যায়। পরে মিশিগান, জর্জিয়া, সাউথ ডাকোটা ও নিউ জার্সিতেও একই ধরনের নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই ঘটনাগুলোকে দুরভিসন্ধিমূলক সাইবার তৎপরতা হিসেবে উল্লেখ করে। পরে মার্কিন সরকারি সূত্র বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে জানায়, এসব হামলার উৎস তেহরান হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পর পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইরান-সংশ্লিষ্ট সাইবার হামলা বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। জার্মানি, পোল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, বেলজিয়াম ও আলবেনিয়াতেও সন্দেহভাজন ইরানি সাইবার হামলার খবর পাওয়া গেছে। তবে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশই ইরানি সাইবার হামলার বড় লক্ষ্য বলে ধারণা করা হয়।
গত মার্চে ব্রিটিশ জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কেন্দ্র দেশটির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সাইবার নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনার পরামর্শ দেয়। সংস্থাটির প্রধান রিচার্ড হর্ন জুনে জানিয়েছিলেন, আগের এক বছরে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামোর বিরুদ্ধে ২০০টির বেশি হামলা মোকাবিলা করেছে তারা।
বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন, বিদেশি প্রতিপক্ষের সাইবার হামলার মাত্রা মোকাবিলায় ব্রিটেন এখনও যথেষ্ট প্রস্তুত নয়। তবে ব্রিটিশ গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর ওপর নজরদারি করা দেশটির গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা কমিটি গত বছর জানিয়েছিল, ব্রিটিশ অবকাঠামোর বিরুদ্ধে বড় ধরনের ইরানি সাইবার হামলার সম্ভাবনা কম।
কমিটির মতে, সাইবার যুদ্ধ ইরানের শক্তির গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। দেশটি হ্যাকার গোষ্ঠীগুলোর পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় করে এবং এসব গোষ্ঠীর প্রতিটিতে শত শত সদস্য রয়েছে।
গত মাসে প্রকাশিত ব্রিটিশ সরকারের একটি ঝুঁকি মূল্যায়নে বলা হয়েছে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর বিরুদ্ধে গুরুতর ও সফল সাইবার হামলার ঝুঁকি ৫ থেকে ২৫ শতাংশের মধ্যে। এতে আরও সতর্ক করা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সাইবার হামলার প্রক্রিয়াকে আরও স্বয়ংক্রিয় করতে পারে। ফলে হামলা দ্রুত ও কার্যকর হওয়ার পাশাপাশি কম দক্ষতার হামলাকারীদের জন্যও এ ধরনের আক্রমণ চালানো সহজ হয়ে উঠতে পারে।
লেখাটি আপনার কেমন লাগলো?
মন্তব্য করতে সাইন-আপ বা লগইনের প্রয়োজন নেই - সরাসরি আপনার মতামত লিখুন।