ইরানকে ‘একঘরে’ করতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা
- আপলোডের সময় : Tuesday, August 25, 2026,

ইরানকে ‘একঘরে’ করতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা
ওয়াশিংটন: বিশ্ব অর্থনীতি থেকে ইরানকে বিচ্ছিন্ন করতে নতুন করে ব্যাপক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে এই অভিযানের লক্ষ্য তেহরানের অর্থের প্রধান উৎস ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সংযোগগুলো বন্ধ করে দেওয়া।
সোমবার (২৪ আগস্ট) মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ইরানকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন না করা পর্যন্ত দেশটির অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ লাইফলাইনগুলো একে একে কেটে দেওয়া হবে। বেসেন্ট এই অভিযানকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঐতিহাসিক ‘ডি-ডে’ অভিযানের সঙ্গে তুলনা করে একে ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় ইরানের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি খাতকে লক্ষ্য করা হয়েছে। এগুলো হলো—ডিজিটাল সম্পদ, প্রযুক্তি, স্বর্ণের বাণিজ্য, বিমান চলাচল এবং নৌপরিবহন। পাশাপাশি ইরানের তেল বিক্রি, ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক প্রযুক্তি সংগ্রহ এবং সাইবার কার্যক্রমে সহায়তার অভিযোগে ৬০টির বেশি ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
বেসেন্ট আরও সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া কোনো দেশ, প্রতিষ্ঠান বা আর্থিক সংস্থা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে পারে। বিশেষ করে ইরানের তেল কেনা বা দেশটির সঙ্গে আর্থিক লেনদেন অব্যাহত রাখলে ‘সেকেন্ডারি স্যাংশন’ বা পরোক্ষ নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি তৈরি হবে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন বিশ্বনেতার সঙ্গে যোগাযোগ করে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক কমানোর জন্য চাপ দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন বেসেন্ট। যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো ইরানের আন্তর্জাতিক আর্থিক ও বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ককে দুর্বল করে দেশটির রাজস্ব প্রবাহ সংকুচিত করা।
তবে এই পদক্ষেপের প্রভাব শুধু ইরানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা বিভিন্ন দেশ ও কোম্পানির ওপর চাপ বাড়লে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
অন্যদিকে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগকে ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ হিসেবে দেখছে এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা নতুন করে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সংঘাতে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন অভিযানের মাধ্যমে ইরানের ওপর সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানো হলো। এখন নজর থাকবে—ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলো ওয়াশিংটনের হুঁশিয়ারিতে কতটা সাড়া দেয় এবং এই নিষেধাজ্ঞা তেহরানের অর্থনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে।











লেখাটি আপনার কেমন লাগলো?
মন্তব্য করতে সাইন-আপ বা লগইনের প্রয়োজন নেই - সরাসরি আপনার মতামত লিখুন।