আসামির শার্ট ঘিরে প্রশ্ন, হত্যাকাণ্ডের তদন্তে আরও কিছু অসঙ্গতি
- আপলোডের সময় : Monday, August 24, 2026,

আসামির শার্ট ঘিরে প্রশ্ন, হত্যাকাণ্ডের তদন্তে আরও কিছু অসঙ্গতি
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানের হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার দুই আসামির একজনের পরনে থাকা শার্ট নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মরদেহ উদ্ধারের দিন রংপুর মহানগর পুলিশের এক কর্মকর্তার পরনেও একই ধরনের শার্ট দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে পুলিশের দাবি, একই ধরনের শার্ট একাধিক ব্যক্তির পরনে থাকতেই পারে।
গতকাল রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মো. রফিকুল ইসলামের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তারা।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে রোববার কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই মামলায় সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেপ্তার দুই যুবক আদালতে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের স্বীকারোক্তির পর আর রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি।
তবে দুই আসামির স্বীকারোক্তির পরও হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো আসামির পরনে থাকা শার্ট এবং মরদেহ উদ্ধারের দিন পুলিশের এক কর্মকর্তার পরনে একই ধরনের শার্ট থাকার বিষয়টি।
কালবেলার রংপুর ব্যুরো চিফও জানিয়েছেন, মরদেহ উদ্ধারের দিন রংপুর মহানগর পুলিশের এক কর্মকর্তাকে একই ধরনের শার্ট পরা অবস্থায় দেখা যায়। ঘটনার সময় স্থানীয় বিভিন্ন ফেসবুক পেজের লাইভ ভিডিওতে মুখে মাস্ক পরা এক ব্যক্তিকে ওই শার্ট পরে সিঁড়ি দিয়ে উঠতে দেখা যায়। পরে জানা যায়, তিনি ওই পুলিশ কর্মকর্তা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বলেন, একই শার্ট আলাদা আলাদা মানুষ পরতেই পারেন।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত মাছুয়াপাড়ার বাসিন্দা সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ডের পর তারা ওই ভবনে বসে ইয়াবা সেবন করেন।
পুলিশ জানায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান টের পেয়ে আটক দুজনের একজন পালিয়ে পাশের রেশম উন্নয়ন বোর্ডের তুতবাগানে লুকিয়ে পড়েন। পরে তুতবাগানের পাশের দখীগঞ্জ শ্মশান থেকে তাকে আটক করা হয়।
শনিবার সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ এক মাদক কারবারির কাছ থেকে ইয়াবা কিনে গণপতি চক্রবর্তীর বাসার পাশের সীমান্ত নামের এক ব্যক্তির বাসায় বসে ইয়াবা সেবন করেন। পরে রাতের শেষ দিকে তারা দেবু নামের এক ব্যক্তির নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ থেকে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে যান।
পুলিশ কমিশনারের বর্ণনা অনুযায়ী, সেখানে ইয়াবা সেবনের সময় শব্দ শুনে গণপতি চক্রবর্তী খালি গায়ে ও গলায় গামছা নিয়ে ছাদে আসেন। এরপরই হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
তবে পুলিশের এই বর্ণনার পাশাপাশি ঘটনাস্থল ও নিহতদের পরিবারের স্বজনদের বক্তব্য নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্নও সামনে এসেছে। সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনারকে প্রশ্ন করা হয়, ইয়াবা সেবনের জন্য দেবু নামের ওই ব্যক্তির নির্মাণাধীন তিনতলা ভবনের ফাঁকা জায়গা ও ছাদ ব্যবহারের সুযোগ থাকার পরও অভিযুক্তরা কেন গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে গেলেন।
জবাবে পুলিশ কমিশনার বলেন, অল্প সময়ে মামলার তদন্তে যতটুকু অগ্রগতি হয়েছে, তাতে তিনি সন্তুষ্ট। তিনি পুলিশের ভালো কাজের প্রশংসা এবং নেতিবাচক কাজের সমালোচনা করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তদন্তের বিষয়ে পুলিশের ওপর আস্থা রাখার কথা বলেন।
এদিকে আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি, হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য এবং শার্টের মিল—এসব বিষয় সামনে রেখে তদন্ত কতটা নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গভাবে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।











লেখাটি আপনার কেমন লাগলো?
মন্তব্য করতে সাইন-আপ বা লগইনের প্রয়োজন নেই - সরাসরি আপনার মতামত লিখুন।