আরিফুল হত্যা: পরিবারের পাশে ত্রাণমন্ত্রী, দ্রুত বিচারের আশ্বাস
- আপলোডের সময় : Friday, August 28, 2026,

আরিফুল হত্যা: পরিবারের পাশে ত্রাণমন্ত্রী, দ্রুত বিচারের আশ্বাস
লালমনিরহাট বিশেষ প্রতিনিধি: মো. রেজাউল করিম
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক আরিফুল ইসলামের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
বুধবার বিকেলে আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের গন্ধমরয়া গ্রামে নিহত আরিফুল ইসলামের বাড়িতে যান মন্ত্রী। সেখানে প্রথমে তিনি আরিফুল ইসলামের কবর জিয়ারত করেন। পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে সমবেদনা জানান এবং তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
শিক্ষক আরিফুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন মন্ত্রী। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এ ঘটনার বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হতে দেওয়া হবে না। সম্প্রতি নন্দিনী হত্যা মামলার রায়ের মতো আরিফুল হত্যার বিচারও দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।”
নিহতের পরিবার অসহায় হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আরিফুল ইসলামের স্ত্রী ও দুই সন্তানের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে নিহতের স্ত্রীকে স্বাবলম্বী করতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নষ্টকারী ও অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং সমাজকে অপরাধমুক্ত রাখতে প্রশাসন কাজ করছে।
হামলা ও মামলা
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আরিফুল ইসলাম বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং এলাকায় মাদক ও অনলাইন জুয়াবিরোধী সচেতনতামূলক কার্যক্রমে অংশ নিতেন। স্থানীয়দের দাবি, তিনি জুয়া ও অন্যান্য সামাজিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১ আগস্ট বিকেলে কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে নিজ বাড়ির কাছে একদল দুর্বৃত্ত আরিফুল ইসলামের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে।
ঘটনার পর নিহত আরিফুল ইসলামের বাবা আবু বকর সিদ্দিক বাদী হয়ে ২ আগস্ট আদিতমারী থানায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন।
মামলার পর পলাতক আসামিদের মধ্যে প্রধান আসামি রহিদুল ইসলামকে ১২ আগস্ট রাতে ঢাকার নয়াপল্টন এলাকা থেকে র্যাব-১৩ গ্রেপ্তার করে বলে জানা গেছে। পরে তাকে আদিতমারী থানা-পুলিশের মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
প্রায় ২০ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ২১ আগস্ট সন্ধ্যায় শিক্ষক আরিফুল ইসলাম মারা যান। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
এদিকে, মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী কারাগারে থাকা আসামি রহিদুল ইসলামসহ হামলায় জড়িতদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
নিহত আরিফুল ইসলামের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে ত্রাণমন্ত্রী পুনরায় আশ্বাস দেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি সরকার ও প্রশাসন সবসময় নিহতের পরিবারের পাশে থাকবে বলেও জানান তিনি।









