‘আরকানেই ফিরতে চাই’—নাগরিকত্ব ও সুরক্ষার শর্তে টেকসই প্রত্যাবাসন চান রোহিঙ্গারা

  • আপলোডের সময় : Wednesday, August 26, 2026,
‘আরকানেই ফিরতে চাই’—নাগরিকত্ব ও সুরক্ষার শর্তে টেকসই প্রত্যাবাসন চান রোহিঙ্গারা
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

Ad served by Google দ্বারা বিজ্ঞাপন

আপনার পঠন অভ্যাস এবং সাইটের কনটেন্টের উপর ভিত্তি করে এই বিজ্ঞাপনটি দেখানো হচ্ছে। এটি আমাদের সাইট পরিচালনায় সহায়তা করে।
ধন্যবাদ! আমরা এই বিজ্ঞাপনটি আপনাকে আর দেখাবো না।

‘আরকানেই ফিরতে চাই’—নাগরিকত্ব ও সুরক্ষার শর্তে টেকসই প্রত্যাবাসন চান রোহিঙ্গারা

রোহিঙ্গা সংকটের ৯ বছর: ১৬ বিদেশি মিশনের যৌথ বার্তা ও উখিয়ায় বিশাল সমাবেশ

মোঃ সুলতান মাহমুদ রিদুয়ান, উখিয়া, কক্সবাজার

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নিপীড়নের নয় বছর পূর্তিতে কক্সবাজারের উখিয়ার শরণার্থী শিবিরগুলোতে নিজ দেশে ফেরার জোরালো দাবি জানিয়েছেন রোহিঙ্গারা। একই দিনে বাংলাদেশে নিযুক্ত ১৬টি কূটনৈতিক মিশন রাখাইনে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানিয়ে যৌথ বিবৃতি দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

Ad served by Google দ্বারা বিজ্ঞাপন

আপনার পঠন অভ্যাস এবং সাইটের কনটেন্টের উপর ভিত্তি করে এই বিজ্ঞাপনটি দেখানো হচ্ছে। এটি আমাদের সাইট পরিচালনায় সহায়তা করে।
ধন্যবাদ! আমরা এই বিজ্ঞাপনটি আপনাকে আর দেখাবো না।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে উখিয়ার ক্যাম্প-৪, ৮ ও ১৩-তে পৃথকভাবে ‘রোহিঙ্গা গণহত্যা স্মরণ ও প্রত্যাবাসন দাবি সমাবেশ’ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে হাজারো রোহিঙ্গা অংশ নেন। তাদের প্রধান দাবি—নিজেদের পূর্বপুরুষের ভিটেমাটিতে নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা ও পূর্ণ অধিকার নিশ্চিত করে মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন।

১৬টি কূটনৈতিক মিশনের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের পূর্ণ অধিকার নিশ্চিত করে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের বিকল্প নেই। তবে রাখাইনের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে এখনই প্রত্যাবাসন শুরু করা সম্ভব নয়।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

Ad served by Google দ্বারা বিজ্ঞাপন

আপনার পঠন অভ্যাস এবং সাইটের কনটেন্টের উপর ভিত্তি করে এই বিজ্ঞাপনটি দেখানো হচ্ছে। এটি আমাদের সাইট পরিচালনায় সহায়তা করে।
ধন্যবাদ! আমরা এই বিজ্ঞাপনটি আপনাকে আর দেখাবো না।

রাখাইন রাজ্যে চলমান সশস্ত্র সংঘাত, বেসামরিক এলাকা ও স্থাপনায় বিমান হামলা এবং ত্রাণ সরবরাহ ও বাণিজ্যে বাধার কারণে সেখানে মানবিক পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। চলমান সহিংসতায় নতুন করে বাস্তুচ্যুতি এবং বঙ্গোপসাগরে মানব পাচার ও ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রার আশঙ্কাও বাড়ছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে কূটনৈতিক মিশনগুলো মিয়ানমারে সহিংসতা বন্ধ এবং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।

যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী ১৬টি মিশন হলো—কানাডা, ডেনমার্ক, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, জাপান, কসোভো, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, স্পেন, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য।

রোহিঙ্গাদের প্রধান তিন দাবি

সমাবেশে রোহিঙ্গারা বলেন, প্রত্যাবাসন মানে শুধু সীমান্ত পার হয়ে মিয়ানমারে ফিরে যাওয়া নয়। তাদের তিনটি প্রধান দাবি হলো—

প্রথমত, মিয়ানমারে ফিরে গিয়ে পূর্বপুরুষের ভিটেমাটিতে পূর্ণ নাগরিকত্ব নিশ্চিত করতে হবে।

জমকালো আয়োজনে শেষ হলো ৯ দিনব্যাপী ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ নাট্যোৎসব জমকালো আয়োজনে শেষ হলো ৯ দিনব্যাপী ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ নাট্যোৎসব

দ্বিতীয়ত, রাখাইনে স্বাধীনভাবে চলাচল, জীবিকা নির্বাহ এবং মৌলিক মানবাধিকারের নিশ্চয়তা দিতে হবে।

তৃতীয়ত, ২০১৭ সালের সহিংসতায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, অগ্নিসংযোগ ও অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

সমাবেশ চলাকালে প্রায় ১০ মিনিট ধরে নিজস্ব ভাষায় স্লোগান দেন রোহিঙ্গারা। তাদের কণ্ঠে উচ্চারিত হয়—“শেষ হত এক্কান ফিরত চাই আরকান”—অর্থাৎ, তাদের শেষ কথা একটাই, তারা আরকানেই ফিরে যেতে চান।

সমাবেশে ২০১৭ সালের সহিংসতায় নিহতদের স্মরণ করা হয়। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের বর্তমান পরিস্থিতি, ন্যায়বিচার, জবাবদিহি এবং মিয়ানমারে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়ে বক্তব্য দেন রোহিঙ্গা নেতারা।

রোহিঙ্গা অধিকারকর্মী মোহাম্মদ রফিক বলেন, “আমরা বিশ্বের কাছে দশ মিনিট সময় চাই। নয়টি বছর পার করেছি। এ দেশ আমাদের নয়, আমরা আমাদের দেশে ফিরতে চাই। এজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”

ইউসিআরের প্রেসিডেন্সিয়াল প্যানেলের সদস্য মোহাম্মদ সৈয়দ উল্লাহ বলেন, বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা দেওয়ায় তারা কৃতজ্ঞ। তবে নিজ দেশে ফিরে স্বাভাবিক জীবনযাপন করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।

তিনি বলেন, প্রত্যাবাসন হতে হবে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ। শুধু সীমান্ত পার করে মিয়ানমারে পাঠিয়ে দিলেই প্রত্যাবাসন সম্পন্ন হবে না। প্রত্যাবাসনের পর রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, অধিকার, নাগরিকত্ব, চলাচলের স্বাধীনতা ও জীবিকার নিশ্চয়তা নিশ্চিত করতে হবে।

সমাবেশে বার্মিজ ভাষায় বক্তব্য দেন ইউসিআর নেতা মাস্টার শোয়েব। তিনি রোহিঙ্গাদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকার আহ্বান জানান।

মাস্টার শোয়েব বলেন, এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে রোহিঙ্গারা ভয় ও অনিশ্চয়তা ছাড়াই নিজেদের জন্মভূমিতে ফিরে যেতে পারেন।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছরের মতো এবারও রোহিঙ্গা গণহত্যা স্মরণ দিবস উপলক্ষে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। সমাবেশকে কেন্দ্র করে ক্যাম্প এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।

রোহিঙ্গা অধিকারকর্মী ও নেতৃবৃন্দ বলেন, নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের অধিকার নিশ্চিত না করে কোনো প্রত্যাবাসনই টেকসই হবে না। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের স্বসম্মানে ফিরে যাওয়ার পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

শেয়ার করুন:

লেখাটি আপনার কেমন লাগলো?

মন্তব্য করতে সাইন-আপ বা লগইনের প্রয়োজন নেই - সরাসরি আপনার মতামত লিখুন।

একটি মন্তব্য লিখুন

আমার সকাল ২৪  ই – পেপার

এ সংক্রান্ত