আইএমইডি প্রতিবেদনে বান্দরবানের ৪৫ কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

  • আপলোডের সময় : Tuesday, August 25, 2026,
আইএমইডি প্রতিবেদনে বান্দরবানের ৪৫ কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

Ad served by Google দ্বারা বিজ্ঞাপন

আপনার পঠন অভ্যাস এবং সাইটের কনটেন্টের উপর ভিত্তি করে এই বিজ্ঞাপনটি দেখানো হচ্ছে। এটি আমাদের সাইট পরিচালনায় সহায়তা করে।
ধন্যবাদ! আমরা এই বিজ্ঞাপনটি আপনাকে আর দেখাবো না।
আইএমইডি প্রতিবেদনে বান্দরবানের ৪৫ কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

আইএমইডি প্রতিবেদনে বান্দরবানের ৪৫ কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার, বান্দরবান: সুকেল তঞ্চঙ্গ্যা

বান্দরবানে সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রায় ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন একটি প্রকল্পে নানা অনিয়ম ও অসঙ্গতির তথ্য উঠে এসেছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন অগ্রগতি ও ক্রয়প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

অন্যদিকে প্রকৌশলী না হয়েও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. নজরুল ইসলামকে প্রকল্পটির প্রকল্প পরিচালক (পিডি) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তিনি প্রশাসন ক্যাডারের ২৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

Ad served by Google দ্বারা বিজ্ঞাপন

আপনার পঠন অভ্যাস এবং সাইটের কনটেন্টের উপর ভিত্তি করে এই বিজ্ঞাপনটি দেখানো হচ্ছে। এটি আমাদের সাইট পরিচালনায় সহায়তা করে।
ধন্যবাদ! আমরা এই বিজ্ঞাপনটি আপনাকে আর দেখাবো না।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বান্দরবানে সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে ২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় নিরাপদ পানি সরবরাহের পরিমাণ ১৩ শতাংশ বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবে তা বেড়েছে মাত্র ৪ শতাংশ বলে আইএমইডির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিধিমালা অনুসরণ না করে প্রকল্পের ক্রয় পরিকল্পনায় থাকা সাতটি প্যাকেজকে ৭৯টি লটে ভাগ করে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এতে প্রকল্পের ক্রয় কার্যক্রম কতটা প্রতিযোগিতামূলক ছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে আইএমইডি।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

Ad served by Google দ্বারা বিজ্ঞাপন

আপনার পঠন অভ্যাস এবং সাইটের কনটেন্টের উপর ভিত্তি করে এই বিজ্ঞাপনটি দেখানো হচ্ছে। এটি আমাদের সাইট পরিচালনায় সহায়তা করে।
ধন্যবাদ! আমরা এই বিজ্ঞাপনটি আপনাকে আর দেখাবো না।

জানা গেছে, প্রকল্পটির ব্যয় ৫০ কোটি টাকার কম হওয়ায় ২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর তৎকালীন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া প্রকল্পটি অনুমোদন করেন। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ক্রয় পরিকল্পনায় সাতটি প্যাকেজ রাখা হয়েছিল। এসব প্যাকেজের গণমাধ্যমে প্রচারের জন্য সাত লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়।

তবে আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্প পরিচালক পরবর্তীতে এসব প্যাকেজকে ৭৯টি লটে ভাগ করেন। এ ধরনের বিভাজনের ক্ষেত্রে অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের (HOPE) অনুমোদন নেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা নেওয়া হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কম দরদাতায় প্রশ্নের মুখে প্রতিযোগিতা

আইএমইডির পর্যবেক্ষণে আরও উঠে এসেছে, উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে (OTM) প্রতিটি লটে দরপত্র বিক্রি হয়েছে মাত্র দুই থেকে তিনটি। শেষ পর্যন্ত প্রতিটি লটে দরপত্র জমা পড়ে মাত্র দুটি করে।

আইএমইডির মতে, উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে এত কম সংখ্যক দরদাতার অংশগ্রহণকে প্রকল্পের ক্রয় কার্যক্রমের জন্য যথেষ্ট প্রতিযোগিতামূলক বলা যায় না। একই সঙ্গে প্রতিটি লটে মাত্র দুটি করে দরপত্র জমা পড়ায় প্রকৃত বাজারদর প্রতিফলিত হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

এভাবে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন ও ক্রয়প্রক্রিয়ায় একাধিক অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগ সামনে এসেছে।

পিডির বক্তব্য

প্রকল্পের কাজে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, প্রকল্পের কাজে অনিয়মের অভিযোগ সত্য নয়। তার নিয়মিত তদারকি ও উপস্থিতির মধ্যেই কাজগুলো পরিচালনা করা হয়েছে।

অন্যদিকে প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক (ডিপিডি) ও বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে-এর বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রকৌশলী বলেন, প্রশাসন ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা প্রকৌশলী না হয়েও উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পালন করার কথা নয়। তবে বিভিন্ন সময় ক্ষমতাবলে এ ধরনের দায়িত্ব দেওয়ার ঘটনা ঘটে। মন্ত্রণালয়ে তদবিরের মাধ্যমে প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব নেওয়ার ঘটনাও রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

আইএমইডির প্রতিবেদনে উঠে আসা পর্যবেক্ষণ ও অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আমার সকাল ২৪  ই – পেপার

এ সংক্রান্ত