অনেকে ২৯ বছর বয়সেই রাষ্ট্রক্ষমতা দখলে ব্যাকুল: মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী
- আপলোডের সময় : Monday, August 10, 2026,

অনেকে ২৯ বছর বয়সেই রাষ্ট্রক্ষমতা দখলে ব্যাকুল: মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী
মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান বলেছেন, অনেকে মাত্র ২৯ বছর বয়সেই রাষ্ট্রক্ষমতা দখলে ব্যাকুল হয়ে উঠেছেন।
রোববার (৯ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘অগ্নিঝরা জুলাইয়ে চিকিৎসকদের অবদান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ‘জুলাই আসলে ৩৬ দিনের নয়, জুলাই ১৭ বছরের। যেদিন দেশে গণতন্ত্র হরণ করা হয়েছে, সেদিনই জুলাইয়ের সূচনা হয়েছে।’
মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী বলেন, জুলাইয়ের কৃতিত্ব নিয়ে একেকজন একেক ধরনের বয়ান দিচ্ছেন। কিন্তু জুলাইয়ের কৃতিত্ব ১৮ কোটি মানুষের। দীর্ঘ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব হিসেবে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অবদান বিশেষভাবে স্মরণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ এবং আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের স্বীকৃতি দেওয়ার লক্ষ্যে জুলাই অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। তবে এখনো অনেক জুলাই যোদ্ধা স্বীকৃতির আওতায় আসেননি। তাদের অন্তর্ভুক্ত করতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। পাশাপাশি গত ১৭ বছরের আন্দোলনে গুম ও হত্যার শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ এবং যথাযথ মূল্যায়নের জন্য শিগগিরই নতুন অধিদপ্তর চালু করা হবে।
সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি জুলাই আন্দোলনে চিকিৎসকদের ভূমিকার যথাযথ স্বীকৃতি না পাওয়াকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আন্দোলনের সময় অনেক হাসপাতালে আহতদের চিকিৎসা না দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আবার যারা সাহস করে চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন, তাদেরও চিহ্নিত করা হয়েছে।
চিকিৎসকের শপথ ভঙ্গ করে আহতদের চিকিৎসা থেকে বঞ্চিতকারীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। একইসঙ্গে জুলাই আন্দোলনে চিকিৎসকদের অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, জুলাই একদিনে আসেনি। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়েছে এবং ২০২৪ সালে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার নতুন দায়িত্ব তৈরি হয়েছে। গত ১৭ বছরের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জুলাইয়ের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে এবং জুলাইয়ে এসে তা পূর্ণতা পেয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমার কাজ ছিল শিক্ষার্থীদের পড়ানো, কিন্তু বিবেকের তাড়নায় আমরা রাস্তায় নেমে এসেছি।’
ড্যাবের মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসের ১৯৫২, ১৯৭১, ১৯৯০, ২০২৪ এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনসহ কোনো গণআন্দোলনেই চিকিৎসকদের অবদান অনুপস্থিত ছিল না। ভবিষ্যতে জুলাইয়ের ইতিহাস নিয়ে বিভ্রান্তি বা দখলদারিত্বের সুযোগ সৃষ্টি না হওয়ার জন্য চিকিৎসকসহ সব গণতন্ত্রকামী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় বক্তারা বলেন, অগ্নিঝরা জুলাইয়ের গণআন্দোলনে আহতদের চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে অসংখ্য চিকিৎসক নিজেদের জীবন ও নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়েছেন। নানা চাপ, ভয়ভীতি ও প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও অনেকে আহত আন্দোলনকারীদের চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন। তাদের এই অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়ন ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানান তারা।
চিকিৎসকরা দাবি জানান, জুলাই আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অবদান নথিভুক্ত করা, শহীদ ও নির্যাতিত চিকিৎসকদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া, জুলাইয়ে চিকিৎসকদের ভূমিকা ইতিহাসে সংরক্ষণ এবং দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত ও নির্যাতিত চিকিৎসকদের ন্যায়সঙ্গত পদায়ন ও পদোন্নতির ব্যবস্থা করতে হবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন গণঅভ্যুত্থানে নির্যাতিত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. মো. রফিকূল ইসলাম। আরও বক্তব্য দেন বিএমইউর প্রো-ভিসি অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম, অধ্যাপক যাকারিয়া আল আজিজ, অধ্যাপক মাযহার শাহীন, বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মো. রফিকূল ইসলাম, সহ-পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. রফিকুল কবির লাবু, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক সাহেদ আলম, শহীদ ডা. মো. কবিরুল ইসলামের সহধর্মিণী শামসুন নাহার শেলী এবং শহীদ ডা. সজীব সরকারের পিতা হালিম সরকার বকুলসহ অনেকে।










