
পঞ্চগড় প্রতিনিধি :
উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা পঞ্চগড়ে জেঁকে বসেছে তীব্র হাড়ভাঙা শীতপ্রবাহ। গত কয়েকদিন ধরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যাওয়ায় জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। ঘন কুয়াশা ও কনকনে ঠান্ডায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত সূর্যের দেখা মিলছে না। ঘন কুয়াশার কারণে সড়ক ও মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে-খাওয়া মানুষ। দিনমজুর, কৃষিশ্রমিক, ভ্যান ও রিকশাচালকরা কাজে যেতে পারছেন না। ফলে দৈনিক আয়ের পথ বন্ধ হয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন তারা।
জেলার গ্রামাঞ্চলে শীতের তীব্রতা আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে অনেক দরিদ্র পরিবার রাত কাটাচ্ছে মানবেতর অবস্থায়। শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ বাড়ছে। সর্দি, কাশি, জ্বর ও নিউমোনিয়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে স্থানীয় হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে।
শীতপ্রবাহের প্রভাব পড়েছে কৃষিখাতেও। ঘন কুয়াশা ও সূর্যের আলো কম থাকায় বোরো ধানের বীজতলা এবং শীতকালীন সবজি চাষে ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। তারা জানান, দ্রুত রোদ না উঠলে ফলন ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে ছিন্নমূল ও হতদরিদ্র মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছালেও অনেক এলাকায় এখনও পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তারা দ্রুত সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ, অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র চালু এবং চিকিৎসা সহায়তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উত্তরাঞ্চলে আরও কয়েকদিন শীতপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
হাড়ভাঙা এই শীতপ্রবাহে পঞ্চগড়ের সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জোরালো হচ্ছে।