
রিপোর্টার: মোঃ শাহীন হাওলাদার
ক্রাইম রিপোর্টার
ফরিদপুরের সালথা উপজেলার ‘আই লাভ’ চত্বরে ২০২৬ সালের গণভোট ও একই বছরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শুরু হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী “ভোটের গাড়ি” প্রচারণা কার্যক্রম। এই উদ্যোগের লক্ষ্য— সাধারণ জনগণকে “হ্যাঁ” ও “না” ভোটের তাৎপর্য সম্পর্কে সচেতন করা এবং জাতীয় নির্বাচনে সক্রিয় অংশগ্রহণে উৎসাহিত করা।
প্রচারণায় ব্যবহৃত গাড়িগুলোতে মাইকিং, পোস্টার, ব্যানার ও লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে গণভোটের উদ্দেশ্য, ভোট প্রদান পদ্ধতি এবং ভোটারের গণতান্ত্রিক অধিকার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানানো হচ্ছে। স্থানীয় মানুষের মধ্যে এ নিয়ে বেশ সাড়া পড়েছে। অনেকেই প্রচারণা গাড়ির কাছে গিয়ে সরাসরি তথ্য নিচ্ছেন এবং ভোট প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নও করছেন।
আয়োজকদের বক্তব্য:
আয়োজকদের মতে, গণভোট ও জাতীয় নির্বাচনে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। তাদের ভাষ্যে— “হ্যাঁ” ও “না” ভোটের মাধ্যমে জনগণ সরাসরি মতামত প্রকাশের সুযোগ পান, যা গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করে। পাশাপাশি জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে।
গণভোট হলো— রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত বা নীতিগত দলিল নিয়ে জনগণের সরাসরি মতামত গ্রহণের প্রক্রিয়া। এ ক্ষেত্রে দলের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় জনগণের সিদ্ধান্ত।
গণভোটে সাধারণত দু’টি অপশন থাকে—
হ্যাঁ (Yes) → প্রস্তাবের পক্ষে মত
না (No) → প্রস্তাবের বিপক্ষে মত
প্রচারণায় জানানো হয়, জুলাইয়ের সনদ একটি নীতিগত দলিল বা অঙ্গীকারনামা, যেখানে দেশের ভবিষ্যৎ পরিচালনা, গণতান্ত্রিক অধিকার, সুশাসন এবং জনগণের অংশগ্রহণ নিয়ে বিভিন্ন নির্দেশনা রয়েছে। এটিকে রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের রোডম্যাপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
সনদে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো—
• ভোটাধিকার নিশ্চিত
• সুষ্ঠু-স্বচ্ছ নির্বাচন
• আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা
• দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান
• রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহিতা
• জনগণের মতামতের মূল্যায়ন
গণভোটে “হ্যাঁ” বেশি হলে সনদ কার্যকরের পথে অগ্রসর হবে, আর “না” বেশি হলে তা সংশোধন বা বাতিলের প্রয়োজন হবে।
সালথার আই লাভ চত্বরে এই প্রচারণা স্থানীয়দের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে। আয়োজকদের আশা— এই ধরনের উদ্যোগের ফলে ২০২৬ সালের গণভোট ও জাতীয় নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি বৃদ্ধি পাবে।
সহজভাবে বলা যায়—
গণভোট হলো এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে “হ্যাঁ” ও “না” ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে জনগণই চূড়ান্ত ক্ষমতার অধিকারী।