
ইনকিয়াদ আহম্মেদ রাফিন, ঝিকরগাছা উপজেলা প্রতিনিধি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশব্যাপী নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে ২৭ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে যশোরের ঐতিহাসিক কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে এক বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি জনসভায় একগুচ্ছ নির্বাচনী অঙ্গীকার ঘোষণা করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের ভোটে জামায়াত ক্ষমতায় গেলে দেশে একটি ইনসাফ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা হবে। তিনি যশোরকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করার দীর্ঘদিনের জনদাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন—
“আল্লাহর রহমতে আমরা দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে যশোর শহরকে পূর্ণাঙ্গ সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তর করা হবে। এটি কোনো করুণা নয়, বরং যশোরবাসীর ন্যায্য অধিকার।”
এ ছাড়া তিনি যশোরকে কেন্দ্র করে কিছু উন্নয়ন প্রতিশ্রুতিও তুলে ধরেন:
স্বাস্থ্যসেবা: একটি আধুনিক মেডিকেল কলেজ স্থাপন এবং ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের মানোন্নয়ন
জলাবদ্ধতা নিরসন: অঞ্চলের দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ
অবকাঠামো: ভৌত অবকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন
দলের নির্বাচনী প্রতীক দাঁড়িপাল্লা সম্পর্কে তিনি বলেন—
“দাঁড়িপাল্লা হলো ইনসাফ বা ন্যায়বিচারের প্রতীক। ইনশাআল্লাহ এই পাল্লার মাপে কোনো কমবেশি হবে না। প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক ও রাজনৈতিক দায়িত্ব।”
উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি আসন্ন গণভোটে নির্ভয়ে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন—
“হ্যাঁ মানে আজাদী (মুক্তি), আর না মানে গোলামী।”
তার মতে, সকল ভয়ভীতি উপেক্ষা করে দেশের মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমেই প্রকৃত মুক্তি আসবে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে ডা. শফিকুর রহমান যশোরে ১০-দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং টেকসই উন্নয়ন ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট দিয়ে জোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।