
শাহ্ ফুজায়েল আহমদ
নির্বাহী সম্পাদক, সুনামগঞ্জ
লিবিয়া থেকে নৌকায় করে গ্রীস যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে অন্তত ২২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৮ জন বাংলাদেশি এবং সুনামগঞ্জ জেলার ১০ জন যুবক রয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় জগন্নাথপুর উপজেলার পাঁচটি পরিবার স্বজন হারিয়ে গভীর শোকে মুহ্যমান।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ বরকত উল্লাহ নিহতদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের সান্ত্বনা দেন এবং দীর্ঘ সময় কথা বলেন। তিনি শোকাহত পরিবারগুলোর আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের কথাও জানান।
তিনি নিহতদের রূহের মাগফিরাত কামনা করে বলেন, “মহান আল্লাহ যেন তাদের জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন।” একই সঙ্গে তিনি মানবপাচারকারী চক্রের প্রলোভনে পা না দিয়ে জীবনের ঝুঁকি না নেওয়ার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, লিবিয়া উপকূল থেকে যাত্রা শুরুর পর নৌকাটি পথ হারিয়ে ভূমধ্যসাগরের গভীরে চলে যায়। কয়েকদিন ধরে কোনো সহায়তা না পেয়ে যাত্রীরা অনাহার ও তৃষ্ণায় দুর্বল হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে নৌকাতেই একে একে তাদের মৃত্যু ঘটে।
সহযাত্রীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, মৃতদেহগুলো দুই দিন পর্যন্ত নৌকায় রাখা হলেও দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে বাধ্য হয়ে সেগুলো সাগরে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। ফলে নিহতদের পরিবারের কাছে মরদেহ ফিরে পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই, যা তাদের শোককে আরও গভীর করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উন্নত জীবনের আশায় দালালচক্রের মাধ্যমে অবৈধভাবে বিদেশযাত্রা করেছিলেন এসব যুবক। কিন্তু সেই স্বপ্নই শেষ পর্যন্ত তাদের জীবনের করুণ পরিণতি ডেকে আনে।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজন হারানোর বেদনায় পরিবারগুলো ভেঙে পড়েছে। মরদেহ না পাওয়ার যন্ত্রণা তাদের কষ্টকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অবৈধ পথে বিদেশযাত্রা প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।