
মোঃ আরিফ হোসেন
স্টাফ রিপোর্টার
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বাবু কামাখ্যা চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, কমিটি বাণিজ্য ও জমি দখলের অভিযোগ তুলে দলটির একাংশের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা বিক্ষোভ করেছেন। এ ঘটনায় উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জামাল উদ্দিনকে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে শোকজ করা হয়েছে।
শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নের দোয়ালিয়া-দেবীপুর এলাকায় এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার ঘটনাটির ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।
শুক্রবার বেগমগঞ্জ উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নের দোয়ালিয়া-দেবীপুর এলাকায় ১.১ কিলোমিটার একটি খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য, কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী বরকত উল্লাহ বুলু। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কায়েসুর রহমান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নোয়াখালী নির্বাহী প্রকৌশলী এস. এম. রেফাত জামিল, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামাখ্যা চন্দ্র দাস, জেলা বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট রবিউল হাসান পলাশ, উপজেলা বিএনপি নেতা আহসান উল্লাহ প্রমুখ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান চলাকালে কামাখ্যা চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, কমিটি বাণিজ্য ও জমি দখলের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেন দলের একাংশের নেতাকর্মীরা। বিক্ষোভকারীরা তার নাম ও ছবি সংবলিত ব্যানার হাতে নিয়ে প্রতিবাদ জানান। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী চলা বিক্ষোভে বক্তারা অভিযোগ করেন, কামাখ্যা চন্দ্র দাস ও তার অনুসারীদের অনিয়ম ও নির্যাতনে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।
একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধরা বিষয়টি প্রধান অতিথি বরকত উল্লাহ বুলুর কাছে জানাতে মঞ্চের দিকে এগিয়ে যান। এ সময় দুপক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও বাকবিতণ্ডা হয়। পরে হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে, এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য বরকত উল্লাহ বুলুর উপস্থিতিতে কামাখ্যা চন্দ্র দাসকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয় বলে দাবি করেন বিক্ষোভকারীরা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশি নিরাপত্তায় তিনি এলাকা ত্যাগ করেন।
স্থানীয়দের দাবি, কামাখ্যা চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে টেন্ডারবাজি ও নানা অনিয়মের একাধিক অভিযোগ উঠলেও কোনো সমাধান হয়নি। বরং নিজের দলের নেতাকর্মীদের কাছ থেকেও চাঁদা দাবি ও লাঞ্ছনার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এলাকায় ভবন নির্মাণ করতে গেলে মোটা অঙ্কের টাকা দিতে বাধ্য করা হয়। ইউনিয়ন কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির আশ্বাস দিয়ে প্রবাসী ও বিত্তশালীদের কাছ থেকেও অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, দোকান ও সড়ক থেকে চাঁদাবাজির মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়।
প্রতিবাদ করলে মারধর, ভয়ভীতি ও মিথ্যা মামলার হুমকি দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তারা।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কামাখ্যা চন্দ্র দাসের মুঠোফোনে অন্তত ১৫–১৬ বার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে একলাশপুর ইউনিয়ন বিএনপির এক আইনজীবী নেতার মাধ্যমে প্রতিবেদককে ফোন করে সংবাদটি প্রকাশ না করার অনুরোধ জানানো হয়। একই সঙ্গে বিষয়টি সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির প্রস্তাবও দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, অপর এক সাংবাদিকের কাছে কামাখ্যা চন্দ্র দাস অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার বিরুদ্ধে কর্মসূচির নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিকে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে শোকজ করা হয়েছে। এ বিষয়ে জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।
এ বিষয়ে নোয়াখালী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলোর সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।