
মোঃ মেহেদী হাসান, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি
ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসনের ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থীর কর্মী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে রাতের আঁধারে ভোটারদের মধ্যে টাকা ছড়ানোর অভিযোগ করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু। আজ বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নগরকান্দা উপজেলার লস্কারদিয়া গ্রামে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ জানান।
সংবাদ সম্মেলনে শামা ওবায়েদ বলেন, “বর্তমানে নির্বাচনী এলাকা স্বাভাবিক আছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচন কমিশন তাদের দায়িত্ব পালন করছেন। তবে গত কয়েকদিনে যা ঘটেছে, তা সংবাদ মাধ্যমে জানানো জরুরি।”
তিনি আরও জানান, “গতকাল (১০ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টার দিকে নগরকান্দার চরযোশর্দী ইউনিয়নের আলগাদিয়া, সালথার রামকান্তুপুর ও বাহিরদিয়া গ্রামে জামায়াত সমর্থিত জোট প্রার্থীর লোকজন ভোটারদের মাঝে টাকা-পয়সা ছড়ানোর চেষ্টা করেন। আমাদের কর্মীরা তাদের বাধা দিলে তারা পালিয়ে যায়। আমরা সকল প্রার্থীকে সম্মান করি, তবে রাতের অন্ধকারে ভোট কেনার চেষ্টা নেক্কারজনক এবং এটি নির্বাচনকে কলুষিত করছে।”
শামা ওবায়েদ আশঙ্কা প্রকাশ করেন, আজ (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতেও তার নির্বাচনী এলাকায় এই ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি বলেন, “সংখ্যালঘু ভাই-বোনেরা যাতে নির্ভয়ে ভোট দিতে পারে, নির্বাচন কমিশন তা নিশ্চিত করবে।”
তিনি অভিযোগ করেন, “গত ৩-৪ দিন ধরে জামায়াতের লোকজন আমাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে প্রমাণবিহীন অভিযোগ দিচ্ছে। ধানের শীষ প্রতীক যেখানে শক্তিশালী, সেই এলাকার নেতাকর্মীদের ওপর এই অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে, যা বিএনপি কর্মীদের হেনস্তা করার চেষ্টা।”
শামা ওবায়েদ সকল প্রার্থীদের অনুরোধ করেন, “নিয়মতান্ত্রিকভাবে সুষ্ঠু ভোটে অংশ নিন। আমরা ১৮ বছর লড়াই করেছি এই ভোটের জন্য, তাই ভোটাধিকার নষ্ট না হোক।”
অন্যদিকে, ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী আল্লামা শাহ আকরাম আলী অভিযোগটি মিথ্যা বলে উল্লেখ করে বলেন, “আমার সমর্থকরা নিজেদের টাকায় নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছে। নির্বাচনের পরিবেশ ভালো আছে।”
সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, “টাকা ছড়ানোর বিষয়ে এখনো কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ আসলে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”