
ওসমান বিন হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দৈনিক প্রথম আলোর কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ‘ব্যর্থতা’ স্বীকার করেছেন সাবেক উপদেষ্টা ফাওজুল কবীর খান।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, “অগ্নিদগ্ধ হতে সংবাদপত্রটিকে বাঁচাতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যর্থ হয়েছে। এ ব্যর্থতার দায় আমাদের। এখানে কোনো যদি বা কিন্তু নাই।”
তিনি জানান, গত বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) অগ্নিদগ্ধ ভবনে আয়োজিত একটি শিল্প প্রদর্শনী দেখতে তিনি গিয়েছিলেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংবাদপত্রটি আক্রান্ত হওয়া দুঃখজনক হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতা অমার্জনীয়।
তুলনামূলক উদাহরণ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, উগ্রপন্থীদের হাতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল হিল আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো পরিস্থিতিতেই সংবাদমাধ্যম রক্ষায় ব্যর্থতা গ্রহণযোগ্য নয়।
ফাওজুল কবীর খান আরও বলেন, “আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে, যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। কেবল উগ্রবাদীদের দোষারোপ করে এ থেকে নিস্তার পাওয়া যাবে না।”
তিনি মতভিন্নতা, পরমতসহিষ্ণুতা ও সংলাপের আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সংলাপের পরিবেশ তৈরি করতে হবে এবং অভিযোগগুলো শুনে বোঝার চেষ্টা করতে হবে।
উল্লেখ্য, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর গত ১৮ ডিসেম্বর রাত পৌনে ১১টার দিকে একদল হামলাকারী প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলা চালায়। তারা শাটার ও কাচের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।
একই সময়ে The Daily Star ভবনেও হামলার ঘটনা ঘটে। এছাড়া সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট এবং পরদিন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী-এর কার্যালয়েও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
সাবেক উপদেষ্টা ফাওজুল কবীর খান অন্তর্বর্তী সরকারে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।