ঝিনাইদহে স্বামী হত্যার আসামিদের মুক্তভাবে ঘোরাফেরার অভিযোগ তুলেছেন নিহতের স্ত্রী
ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার কুলবাড়িয়া গ্রামের নিহত আলফাজ উদ্দিনের স্ত্রী সম্পতি নেছা অভিযোগ করেছেন, তার স্বামীকে নৃশংসভাবে হত্যা করে মাথা কেটে ফুটবল খেলেছিল যারা, সেই আসামিরা এখন প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ অভিযোগ করেন।
সম্পতি নেছা বলেন, “কেউ জামিনে বের হয়েছে, আবার যাদের ফাঁসির আদেশ হয়েছিল তারা নাকি ক্ষমা পেয়েছে। আমার সন্তানদের এতিম করা আসামিরা বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এ কেমন বিচার? আমি আল্লাহর কাছে বিচার দিয়েছি।”
তিনি জানান, জমি ও পূর্ব শত্রুতার জেরে কুলবাড়িয়া গ্রামের পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য সার্জনের সঙ্গে তার স্বামী আলফাজ উদ্দিনের বিরোধ ছিল। ১৯৯৯ সালের ৪ এপ্রিল রাতে পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির আঞ্চলিক নেতা হানিফের নেতৃত্বে সার্জন, আব্দুল মালেক, শহিদুল ইসলাম ওরফে জেন, শের আলী, জুর আলী ও বেল্টু ওরফে তোয়াসহ কয়েকজন আলফাজকে কুপিয়ে হত্যা করে। পরে দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে সেটি নিয়ে ফুটবল খেলার অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা আনজেল আলী বাদী হয়ে হানিফসহ অজ্ঞাত ১৫–১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে সাতজনকে অভিযুক্ত করে একই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে চার্জশিট দেয়। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০০১ সালের ২০ নভেম্বর আদালত সার্জন, হানিফ, শহিদুল ইসলাম (জেন), শের আলী, জুর আলী, আব্দুল মালেক ও বেল্টু (তোয়া)–কে মৃত্যুদণ্ড দেন।
পরে আসামিপক্ষ উচ্চ আদালতে আপিল করলে ২০০৪ সালে উচ্চ আদালত সার্জন, হানিফ ও বেল্টুর মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। অন্যদিকে শহিদুল ইসলাম (জেন), শের আলী, জুর আলী ও আব্দুল মালেককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সার্জন, হানিফ ও বেল্টুকে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সুপারিশে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি সাধারণ ক্ষমা করেন। এর মধ্যে হানিফ ২০২৫ সালে প্রতিপক্ষের গুলিতে দুই সহযোগীসহ নিহত হন।
সম্পতি নেছা অভিযোগ করে বলেন, “সার্জনের মৃত্যুদণ্ড হলেও সে এখন জামিনে বের হয়ে ঘুরছে। কিভাবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জামিন পায় বুঝতে পারছি না। মালেকও কিছুদিন জেল খেটে এলাকায় ফিরে সংগঠিত হচ্ছে। তারা আবার আমার সন্তানদের ক্ষতি করতে পারে। আমরা সঠিক বিচার পাইনি।”
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ জজ কোর্ট-এর পিপি এসএম মশিয়ুর রহমান বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত পরিতাপের। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করলে লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।”