
নিউজ ডেস্ক, আমার সকাল ২৪
গাইবান্ধায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সম্মুখসারির নেতাদের টার্গেট করে পরিকল্পিত হত্যার প্রস্তুতির প্রমাণ মিলেছে বলে দাবি উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ‘টার্গেট লিস্ট’ ফাঁস হওয়ার পর জেলায় ব্যাপক উদ্বেগ, ক্ষোভ ও নিরাপত্তা শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ফাঁস হওয়া তথ্য অনুযায়ী, জুলাই–আগস্টের ছাত্রজনতার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া গাইবান্ধার বিভিন্ন উপজেলা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রনেতাদের চিহ্নিত করে একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়। সেখানে সরকারি কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন উপজেলার আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট পরিচিত মুখদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, একটি গোপন WhatsApp গ্রুপে এসব নিয়ে পরিকল্পিত আলোচনা হয় এবং “কিলিং মিশন” বাস্তবায়নের প্রস্তুতির কথাও উঠে আসে।
এ ঘটনায় জেলায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ছাত্রনেতারা বলছেন, এটি শুধুমাত্র ভয় দেখানোর কৌশল নয়; বরং পরিকল্পিতভাবে আন্দোলনের নেতৃত্ব স্তব্ধ করে দেওয়ার অপচেষ্টা। একাধিক ছাত্রনেতা জানিয়েছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরেই হুমকি ও নজরদারির মধ্যে রয়েছেন।
একজন শীর্ষ ছাত্রনেতা বলেন, “আমাদের আন্দোলন ছিল বৈষম্যের বিরুদ্ধে, কারও বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত নয়। এখন যেভাবে আমাদের টার্গেট করা হচ্ছে, তাতে আমাদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। আমরা প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও নিরাপত্তা চাই।”
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যে তারা অবগত আছেন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে এখনো পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং গুজব বা উসকানিমূলক তথ্য প্রচার না করার অনুরোধ করেছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, বিষয়টি দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করা না হলে পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হতে পারে। ছাত্রনেতারা নিরাপত্তা জোরদার ও দায়ীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।