
সাইদুল ইসলাম, বালাগঞ্জ (সিলেট) বিশেষ প্রতিনিধি ::
সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলায় কুশিয়ারা নদীতে সেতু নির্মাণের দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় আপাতত ফেরি সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ফেরিঘাট নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে বালাগঞ্জ প্রান্তে ফেরিঘাট স্থাপন কাজের উদ্বোধন করেন সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা এম এ মালিক। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, ফেরি বিভাগের কর্মকর্তা, সড়ক ও জনপথ (সওজ) সিলেট বিভাগের কর্মকর্তাসহ সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলার সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বালাগঞ্জ অংশে দুই কোটি টাকা এবং মৌলভীবাজারের রাজনগর অংশে এক কোটি ত্রিশ লাখ টাকার পৃথক দুটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ২০২৩ সালের ২৪ জানুয়ারি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলা ও সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার জেড-২০১৭ সড়কের ১৭তম কিলোমিটারে কুশিয়ারা নদীর ওপর সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতায় একটি নতুন ফেরিঘাট স্থাপনের প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়। মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব টিনা পালের স্বাক্ষরিত ওই পত্রে প্রধান প্রকৌশলীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
তবে প্রশাসনিক অনুমোদনের পর দীর্ঘদিন দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে হতাশা দেখা দেয়। পরবর্তীতে গত ৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে বালাগঞ্জ বাজার এলাকার মুইস গেইট সংলগ্ন স্থান ও রাজনগর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের খেয়াঘাট বাজারের নিকট তুলাপুর গ্রামে প্রস্তাবিত ফেরিঘাটের স্থান পরিদর্শন করেন সওজ মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী কায়সার হামিদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সে সময় টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত কাজ শুরুর আশ্বাস দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, ২০০১ সালে বিএনপি সরকার গঠনের পর মৌলভীবাজার-৩ আসনের এমপি ও তৎকালীন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমান কুশিয়ারা নদীতে সেতু নির্মাণের আশ্বাস দেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে বিষয়টি জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হলেও সেতু নির্মাণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। প্রায় তিন দশক ধরে দুই উপজেলার মানুষ কেবল আশ্বাসই পেয়ে আসছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, খরস্রোতা কুশিয়ারা নদী দুই উপজেলার মাঝখান দিয়ে বয়ে গেছে। প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ নদী পার হয়ে যাতায়াত করেন। দীর্ঘদিন ধরে সেতুর দাবিতে আন্দোলন হলেও এখন পর্যন্ত খেয়া নৌকাই একমাত্র ভরসা। সেতু নির্মাণ হলে বালাগঞ্জ ও রাজনগর উপজেলার শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসী জানান, রাজনগর উপজেলার ফতেহপুর, উত্তরভাগ, পাঁচগাঁও, মুন্সিবাজার ও রাজনগর সদর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষের যোগাযোগ বালাগঞ্জমুখী। একইভাবে বালাগঞ্জের অনেক মানুষেরও রাজনগরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন নদী পার হয়ে বিদ্যালয় ও কলেজে যেতে হয়। সেতু না থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের।