
নিউজ ডেক্স, আমার সকাল ২৪
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে ইরানে পারমাণবিক বোমা তৈরির দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ক্রমবর্ধমান সামরিক হামলার মুখে দেশটির কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলো মনে করছে, নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি। আর সেই প্রতিরোধের অন্যতম মাধ্যম হতে পারে পারমাণবিক অস্ত্র।
সম্প্রতি দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় পারমাণবিক নীতি নিয়ে কট্টর অবস্থান আরও শক্তিশালী হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যদিও ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো পারমাণবিক বোমা তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে জানানো হয়েছে, তবে ক্ষমতার ভেতরে এ নিয়ে আলোচনা চলছে এবং কিছু প্রভাবশালী মহল নীতি পরিবর্তনের পক্ষে মত দিচ্ছে।
এদিকে, পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি বা এনপিটি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। কট্টরপন্থীদের দাবি, এই চুক্তি ইরানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান সরাসরি বোমা তৈরি না করেও এমন অবস্থানে পৌঁছাতে চায়, যাতে প্রয়োজন হলে খুব দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা সম্ভব হয়।
তবে ধর্মীয় দিক থেকেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে আয়াতুল্লাহ খামেনি পারমাণবিক অস্ত্রকে ইসলামবিরোধী ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সেই অবস্থান পরিবর্তন হতে পারে কিনা, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
সব মিলিয়ে, অভ্যন্তরীণ চাপ ও বাহ্যিক হুমকির কারণে ইরানের পারমাণবিক নীতি এখন নতুন এক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।